শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্পের উত্থান: মে মাসের যুদ্ধে অর্জিত সাফল্য আঞ্চলিক অস্ত্র বাজারে নতুন দিগন্ত খুলেছে

পাঠক প্রিয়

অনলাইন ডেস্ক

ইসলামাবাদ: গত বছরের মে মাসে ভারতের সঙ্গে চার দিনের সংঘাত পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে পাকিস্তান কেবল সামরিক শক্তির প্রদর্শনই করেনি, বরং দেশীয় অস্ত্রের কার্যকারিতা ও সক্ষমতাও প্রমাণ করেছে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানায়, এই সংঘাতে পাকিস্তান জেএফ-১৭ থান্ডার মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান, আল-খালিদ যুদ্ধট্যাংক এবং ফাতাহ সিরিজের গাইডেড মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম (জি-এমএলআরএস) ব্যবহার করেছে। বিশেষ করে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ভারতের পাঞ্জাবের আদমপুরে মোতায়েন এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি তুলে দেশের সামরিক সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষেও জেএফ-১৭ তার সক্ষমতা প্রমাণ করেছিল।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এই সাফল্যকে দেশীয় অর্থনীতির জন্য সম্ভাবনার দুয়ার হিসেবে দেখছেন। তিনি জিও নিউজকে বলেন, “আমাদের বিমানগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত। আমরা এত বেশি অর্ডার পাচ্ছি যে, ছয় মাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রার তহবিলের প্রয়োজনও কমে যাবে।”

অস্ত্র চুক্তি ও বৈঠকের টাইমলাইন:

  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬: ইন্দোনেশিয়া ৪০টিরও বেশি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ও মানববিহীন আকাশযান (ড্রোন) কেনার প্রস্তাব নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা সম্ভাব্য চুক্তি চূড়ান্ত করার পথে রয়েছেন।

  • ১০ জানুয়ারি ২০২৬: ইরাকের বিমানবাহিনী প্রধান পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার প্রশংসা করে জেএফ-১৭ ও সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

  • ৭ জানুয়ারি ২০২৬: সৌদি আরব প্রায় ২০০ কোটি ডলারের ঋণকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তিতে রূপান্তর করার বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। সম্ভাব্য চুক্তির মোট মূল্য প্রায় ৪০০ কোটি ডলার।

  • ৬ জানুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে জেএফ-১৭ কেনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। পাকিস্তান বিমানবাহিনী বাংলাদেশের জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ ও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

  • ২২ ডিসেম্বর ২০২৫: লিবিয়ার সঙ্গে মাল্টি বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি চূড়ান্ত হয়, যেখানে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ও সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান অন্তর্ভুক্ত।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মে মাসের যুদ্ধ পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে তুলে ধরেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত অস্ত্র সরবরাহের ফলে পাকিস্তান এখন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের নজরে এসেছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য নতুন সম্ভাবনার সূচনা করতে পারে।

সূত্র: দ্য ডন নিউজ

সর্বশেষ সংবাদ

প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান, নাকি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সূচনা?

সুফি সাগর সামস বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের সংঘাতমুখী রাজনীতি, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে প্রতিশোধের সংস্কৃতি,...

শিরোনাম: চীন-মিয়ানমার করিডরে যুক্ত হলে ২৪ ঘণ্টায় চীনে পৌঁছাবে বাংলাদেশের পণ্য: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাকে করে বাংলাদেশ থেকে চীনে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী...

জাবির বাজেট ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা, গবেষণায় বরাদ্দ শূন্য

স্টাফ রিপোর্টার | জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৩৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট। শনিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায়...

বিশ্বকাপ জিতবে রোনালদোর পর্তুগাল’—ঘানার পুরোহিতের চাঞ্চল্যকর দাবি

স্পোর্টস ডেস্ক: ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এক চাঞ্চল্যকর ও বিতর্কিত ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন ঘানার আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব নানা কোয়াকু বোনসাম। তার দাবি, আগামী বিশ্বকাপে...

বিয়েতে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলে অতিরিক্ত জনপ্রতি ১ হাজার টাকা ট্যাক্সের প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক ঢাকা: বিয়ের অনুষ্ঠানে ১০০ জনের বেশি অতিথি হলে অতিরিক্ত প্রত্যেক অতিথির জন্য এক হাজার টাকা করে সরকারি ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের...

জনপ্রিয় সংবাদ