অনলাইন ডেস্ক

মিনিয়াপোলিস, যুক্তরাষ্ট্র, ১০ জানুয়ারি (রয়টার্স): যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কর্মকর্তার গুলিতে এক তরুণী নিহত হওয়ার ঘটনায় শহরজুড়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শনিবার তীব্র ঠান্ডা ও ঝড়ো হাওয়ার মধ্যেও হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামেন। দেশজুড়ে এ নিয়ে এক হাজারেরও বেশি বিক্ষোভ ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু ৩৭ বছর বয়সী রেনে গুড। স্থানীয় সময় বুধবার আইস কর্মকর্তার গুলিতে তিনি মারা যান। নিহত রেনে গুডের গাড়িটি কর্মকর্তাদের দিকে এগোচ্ছিল কিনা তা নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা ঘটনাটি ‘অযৌক্তিক’ বলে অভিহিত করেছেন। তাদের ভাষ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিওতে দেখা গেছে, গুডের গাড়িটি আইস কর্মকর্তার দিক থেকে সরছিল, ঠিক তখনই গুলি চালানো হয়।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, আইস কর্মকর্তা আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালান। ডিএইচএসের দাবি, গুড গাড়িটিকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করে কর্মকর্তাদের চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ঘটনাস্থলে আরেক কর্মকর্তা গাড়ির চালকের পাশে গিয়ে তাকে গাড়ি থেকে নামার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
শনিবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কয়েক হাজার মানুষ রেনে গুডের নাম ধরে স্লোগান দেন। তারা ‘অ্যাবলিশ আইস’, ‘নো জাস্টিস, নো পিস – গেট আইস অব আওয়ার স্ট্রিটস’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। ৩০ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী এলিসন মন্টগোমারি রয়টার্সকে বলেন, “আমি ভীষণ ক্ষুব্ধ, পুরোপুরি হৃদয়ভাঙা ও বিধ্বস্ত। তবুও ভেতরে এক আশার আলো জ্বলছে যে, কিছু পরিবর্তন হবে।”
মিনেসপলিস–সেন্ট পল এলাকায় প্রায় দুই হাজার ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়। ডিএইচএস এটিকে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অভিযান বলে দাবি করেছে। ঘটনায় রাজ্যের ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
মিনিয়াপোলিসের বাইরেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ৮ জানুয়ারি ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে মার্কিন বর্ডার প্যাট্রোলের গুলিতে এক নারী ও এক পুরুষ আহত হন। ডিএইচএসের ভাষ্য, চালক গাড়িটিকে ‘অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’ করে কর্মকর্তাদের চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
ইন্ডিভিজিবল ও আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের মতো সংগঠনগুলো ‘আইস আউট ফর গুড’ ব্যানারে ১০ ও ১১ জানুয়ারি দেশজুড়ে এক হাজারেরও বেশি কর্মসূচির ডাক দেয়। সহিংসতার ঝুঁকি কমাতে সব সমাবেশ সূর্যাস্তের আগে শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ফিলাডেলফিয়ায় বিক্ষোভকারীরা সিটি হল থেকে ফেডারেল আটক কেন্দ্রে মিছিল করেন এবং ‘আইসকে চলে যেতে হবে’, ‘নো ফ্যাসিস্ট ইউএসএ’ স্লোগান দেন। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে কয়েকশ মানুষ অভিবাসন আদালতের পাশ দিয়ে মিছিল করেন। ইন্ডিভিজিবলের সহ-নির্বাহী পরিচালক লিয়া গ্রিনবার্গ বলেন, “আমরা রেনের জন্য বিচার চাই, সমাজ থেকে আইসকে বের করতে চাই ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ চাই।”


