অনলাইন ডেস্ক

দীর্ঘমেয়াদি ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে সামরিক কৌশলবিদদের সামনে নতুন বাস্তবতা হাজির করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র এখন আর দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে টেকসই নয়। পারমাণবিক ওয়ারহেড ছাড়া এসব ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিটি ইউনিটের ব্যয় এত বেশি যে মাসের পর মাস ধরে চলা যুদ্ধে তাদের ব্যবহার কার্যত অকার্যকর হয়ে উঠছে।
ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যয়–বহুলতা লড়াইকে করছে জটিল
রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় দেশই যুদ্ধের শুরুতে ব্যাপকভাবে উচ্চমূল্যের ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করলেও সময়ের সঙ্গে দেখা গেছে, এসব অস্ত্র দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে আর কার্যকর নয়। প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ব্যয় কয়েক লাখ থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হওয়ায় যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপ দ্বিগুণ হয়ে পড়ে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষতি সাধন তুলনামূলকভাবে সীমিত। ফলে বিপুল ব্যয়ে সীমিত লাভের এই সমীকরণ যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ধরনের কৌশলগত পুনর্বিবেচনা এনে দিয়েছে।
লড়াইয়ে মোড় ঘোরাচ্ছে ড্রোন
ক্ষতির হিসাব–নিকাশের এই নতুন বাস্তবতার মধ্যেই রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই এখন ড্রোননির্ভর যুদ্ধকৌশলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে। কম খরচে তৈরি করা ড্রোন দিয়ে গোয়েন্দা নজরদারি, লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা, এমনকি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও ব্যাহত করার মতো কাজগুলো দ্রুত, নিরাপদ ও তুলনামূলক কম খরচে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।
দামি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে কয়েকশ ডলারের ড্রোন ভূপাতিত করার চিত্রও এখন যুদ্ধক্ষেত্রে মোটেই বিরল নয়। সামরিক বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা এই বাস্তবতা দেখিয়ে দিচ্ছে, ভবিষ্যতের সংঘাতে মানবহীন উড়োজাহাজই মূল অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
পরিবর্তিত যুদ্ধকৌশলে নতুন প্রতিযোগিতা
বিশ্লেষকদের মতে, ড্রোন উৎপাদন, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম, সাইবার অপারেশন এবং স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধ প্রযুক্তির দিকে দেশগুলোর বিনিয়োগ এখন দ্রুত বাড়ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যয়-দক্ষ প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করেছে।
অনেক সামরিক বিশেষজ্ঞই বলছেন, এই যুদ্ধ বিশ্বের অস্ত্র–নীতি, প্রতিরক্ষা বাজেট, এবং কৌশলগত পরিকল্পনা–—সবকিছুকে পুনর্নির্মাণে বাধ্য করবে। প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র যে ভবিষ্যতের যুদ্ধকে প্রাধান্য দেবে না, সে বিষয়টি এখন কার্যত নিশ্চিত।


