নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি তেল খাতে অনিয়ম ও সিন্ডিকেট কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন জেলায় অবৈধ মজুত ও সরবরাহে অনিয়ম শনাক্তে প্রশাসন মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ মজুত প্রতিরোধে প্রতিটি জেলায় ভিজিল্যান্স টিম গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকরা প্রতিদিন তেলের মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত প্রতিবেদন দিচ্ছেন। পাশাপাশি পেট্রোলপাম্পের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গার কমিশনার ঘাট এলাকায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত হালদারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে প্রায় ৬ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়, যা ৩০টি ড্রামে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা হয়েছিল।
অভিযানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে অংশ নেন। তবে ঘটনাস্থলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দকৃত তেল বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সমুদ্রগামী জাহাজ ও তেল ডিপো থেকে পরিবহনের সময় একটি অসাধু চক্র তেল অপসারণ করে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করছে।
অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও বিক্রি বন্ধ রাখায় একটি পেট্রোলপাম্পকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পার্বতীপুর ইউনিয়নের বড়দাদপুর এলাকার মেসার্স ব্রাদার্স অ্যান্ড সিস্টার্স ফিলিং স্টেশনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকির মুন্সী জানান, ‘পাম্পে তেল নেই’ উল্লেখ করে বিক্রি বন্ধ রাখা হলেও অভিযানে গিয়ে বিপুল পরিমাণ তেলের মজুত পাওয়া যায়। সেখানে ২ হাজার ৩৬৮ লিটার পেট্রোল, ৩ হাজার ৭৬০ লিটার ডিজেল এবং ৩ হাজার ৬৫৫ লিটার অকটেন সংরক্ষিত ছিল।
তিনি আরও বলেন, মজুত থাকা সত্ত্বেও তেল বিক্রি না করা জনস্বার্থবিরোধী হওয়ায় সংশ্লিষ্ট পাম্পকে জরিমানা করা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে দেশের সব তেল ডিপো, পেট্রোলপাম্প ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা কঠোর নজরদারির আওতায় রয়েছে।


