
জাতির শক্তি কেবল জনসংখ্যা বা অর্থনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সমন্বয়ে নিহিত। যে জাতি একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে দাঁড়াতে পারে, সেই জাতি যে কোনো সংকটের মোকাবিলা করতে সক্ষম। অন্যদিকে, ভেতরের বিভাজন রাষ্ট্র ও সমাজকে দুর্বল করে।
৬২২ খ্রিস্টাব্দে হযরত মুহম্মদ (স) হিজরত করে মদিনার ইয়াহুদি, খ্রিস্টান, পৌত্তলিক, মুশরিক, দাস-দাসী, ধর্ম, বর্ণ-নির্বিশেষে সকল শ্রেণিপেশার মানুষকে চুক্তির বন্ধনে ঐক্যবদ্ধ করে একটি জাতিরাষ্ট্র গঠন করেছিলেন।তিনি সকলকে সমানমর্যাদার ভিত্তিতে নাগরিকত্ব দিয়েছিলেন। এই নাগরিকদের গণভোটে নবী মুহম্মদ (স) মদিনা রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
মহানবী মুহম্মদ (স) এর শাসনামলে ইয়াহুদিরা ছিল, মুসলিম জাতির পরম বন্ধু এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সহযোগী। ইয়াহুদিরা মুসলমানদের পক্ষে যুদ্ধ করেছিল। কিন্তু খিলাফত কায়েম হওয়ার পর থেকে ইয়াহুদি-মুসলমান পরস্পরের চরম শত্রুতে রূপান্তর হয়েছে। এভাবে উমাইয়া খিলাফতের শাসনের প্রভাবে মুসলমানরা পৃথিবীর সকল জাতি-ধর্মের দুশমন এবং ক্ষেত্রবিশেষে গোলামে পরিণত হয়েছে।
ইসলামে ঐক্যকে শুধুমাত্র সামাজিক প্রয়োজন হিসেবে দেখা হয় না; এটি ঈমানি ফরজ। কুরআন মজিদে আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমরা সবাই আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিভক্ত হয়ো না।” (আলে ইমরান, ১০৩)। বিভাজন শুধু রাজনৈতিক দুর্বলতা নয়, এটি দ্বিনি অবাধ্যতারও চিহ্ন।
পবিত্র কুরআন মজিদে সতর্ক করে যে, “শয়তান চায় তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে।” (আল-মায়িদা, ৯১)। তাই সামাজিক ও নৈতিক সংযমের মাধ্যমে ঐক্য রক্ষা করা জরুরি। আল-বাকারাহ সুরায় বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।” (১৫৩)।
জাতীয় ঐক্য মানে মতভেদ থাকা সত্ত্বেও সম্পর্ক, ন্যায়বোধ ও দায়িত্ববোধ অটুট রাখা। দেশের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার চূড়ান্ত প্রকাশ হলো, এক হয়ে জাতীয় স্বার্থের জন্য কাজ করা।
সুফি সাগর সামস্
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি।


