আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চতুর্থ সপ্তাহে প্রবেশ করেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, কিন্তু এ সংঘাতের অবসান নিকটবর্তী হতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং যুদ্ধের পরবর্তী ধাপ ও সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস নিউজের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হোয়াইট হাউস প্রশাসন যুদ্ধের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ এবং ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা আশা করছেন, যুদ্ধ আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ চলতে পারে, এ সময়ে কূটনৈতিক ভিত্তি তৈরি করা হবে।
ট্রাম্প শুক্রবার (২০ মার্চ) সামাজিক মাধ্যমে জানান, “মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বিশাল সামরিক প্রচেষ্টা গুটিয়ে আনার কথা ভাবছি। আমাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।”
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শান্তি আলোচনার সম্ভাব্য প্রস্তুতিতে ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার জড়িত। যদিও সরাসরি মার্কিন ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ এখনো হয়নি, তবু মিশর, কাতার এবং যুক্তরাজ্য দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেছে। সূত্র বলছে, ইরান আলোচনায় আগ্রহী, তবে কঠোর শর্তে।
মার্কিন প্রস্তাবিত ছয় শর্ত
১. আগামী পাঁচ বছরের জন্য কোনো ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি না রাখা।
২. ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
৩. ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো (নাতাঞ্জ, ইসফাহান, ফোরদো) নিষ্ক্রিয় করা।
৪. সেন্ট্রিফিউজ ও পারমাণবিক যন্ত্রপাতির উৎপাদন ও ব্যবহারে আন্তর্জাতিক নজরদারি নিশ্চিত করা।
৫. আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্রের সীমা ১ হাজারের বেশি হবে না।
৬. লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি ও গাজার হামাসের মতো প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করা।
ইরানের ছয় শর্ত
১. ভবিষ্যতে যুদ্ধ আর না হওয়ার নিশ্চয়তা।
২. মধ্যপ্রাচ্যে সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করা।
৩. ইরানকে ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৪. পুরো অঞ্চলে সব ধরনের যুদ্ধ বন্ধ করা।
৫. হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন আইনি কাঠামো তৈরি।
৬. ইরানবিরোধী গণমাধ্যম বা ব্যক্তিদের বিচার ও প্রত্যর্পণ।
এতে দেখা যাচ্ছে, দুই দেশই শান্তি আলোচনার জন্য সর্তক আগ্রহী, তবে তাদের শর্তাবলীর মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। যুদ্ধের অবসান এবং কূটনৈতিক সমাধান কবে সম্ভব হবে, তা আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে স্পষ্ট হতে পারে।


