অনলাইন ডেস্ক

১৩ বছর আগে গুম হওয়া বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে হত্যা করা হয়েছে—এমন তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
বুধবার গুম ও হত্যার অভিযোগে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিলের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্তে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে একশ’র বেশি মানুষকে গুমের পর হত্যার অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
এম ইলিয়াস আলী বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সিলেট-২ আসন থেকে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১২ সালের এপ্রিলে ঢাকার বনানীতে নিজের বাসার কাছ থেকে তাকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে, গুম ও শতাধিক মানুষকে হত্যার অভিযোগে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আমলে নিয়েছে। বুধবার দুপুরে প্রসিকিউশনের দাখিল করা অভিযোগ গ্রহণ করে ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন।
মামলার অভিযোগপত্রে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গাজীপুরে তিনজনকে হত্যা ছাড়াও বরগুনার পাথরঘাটার চর-দুয়ানিতে ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া বনদস্যু দমনের নামে সুন্দরবনে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে হত্যার তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগও রয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আরও জানান, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম, ইলিয়াস আলী, সাজেদুল হক সুমন, সালাহউদ্দিন আহমেদসহ তিনশতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।
তিনি নিশ্চিত করেন, আগামী ২১ ডিসেম্বর এ মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।


