নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের ৪০ ফুট নিচে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে উদ্ধারে টানা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিস, পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে ঘটনাটি ঘটার পর থেকে রাতভর চলেছে উদ্ধার অভিযান— তবুও বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাস্থলে উৎকণ্ঠার ছায়া
ঘটনাটি ঘটে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তানোর উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে। নিখোঁজ সাজিদ ওই গ্রামের রাকিব উদ্দীনের ছেলে। শিশুটি খেলতে খেলতে বাড়ির পাশে স্থাপিত গভীর নলকূপের সরু গর্তে পড়ে যায়। দ্রুত স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে সংবাদ দিলে রাজশাহী ও আশপাশের স্টেশন থেকে উদ্ধারকর্মীরা এসে অভিযান শুরু করেন।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা, রাত পেরিয়ে ভোর— পুরো সময়টাতেই শিশুটিকে জীবিত পেতে নির্ঘুম সময় কাটিয়েছেন উদ্ধার কর্মীরা। উন্নত ক্যামেরা, অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা, এয়ার ব্লোয়ারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হয়। একাধিকবার ক্যামেরা নামানো হলেও শিশুটিকে স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
মায়ের আহাজারিতে ভারী পরিবেশ
ঘটনাস্থলের কাছে বৃহস্পতিবার সকালেও ভিড় করেন শিশুটির স্বজনরা। বিশেষ করে মা রুনা খাতুনের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। সন্তানকে ফিরে পেতে তিনি বারবার প্রার্থনা করতে থাকেন—
“আল্লাহ, আমার সন্তানকে নিয়ে যেও না… অনেক কষ্ট করে বড় করেছি… আমাকে ওকে আরও বড় করতে দাও… আমার শিশুকে আমার বুকে ফিরিয়ে দাও।”
উৎসুক জনতার ভিড়, নিয়ন্ত্রণে হিমশিম পুলিশ
বৃহস্পতিবার সকাল গড়াতেই ঘটনাস্থলে শত শত মানুষ জড়ো হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। উদ্ধার কাজে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, সেজন্য ঘটনাস্থলের চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে।
উদ্ধারকর্মীদের আশা— শিশুটি জীবিত পাওয়া যাবে
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ‘টানেল ডিগিং’ ও ‘ভার্টিক্যাল রেস্কিউ’— দুই পদ্ধতিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। শিশু এখনও গর্তের ভেতরে সঙ্কীর্ণ স্থানে আটকে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তাদের আশা— শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে জীবিত ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।


