অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা: ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক বার্তা দিয়ে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানাচ্ছেন। সর্বশেষ হুঁশিয়ারিতে তিনি বলেছেন, যদি ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের ফাঁসিতে ঝুলায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে।
এর আগে ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে টুইট করেছেন, “ইরানি দেশপ্রেমিকরা, বিক্ষোভ চালিয়ে যান, আপনারা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিন। হত্যাকারী ও নির্যাতনকারীদের নাম সংরক্ষণ করুন। তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে। বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব ধরনের বৈঠক আমি বাতিল করেছি।”
মঙ্গলবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে তেহরানের বিরুদ্ধে ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেওয়া হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি সরাসরি সামরিক হামলার ঘোষণা নয়। সীমিত বা প্রতীকী কোনো পদক্ষেপও ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রভাবিত করতে পারে।
সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সিআইএ পরিচালক লিয়ন পানেটা সিএনএনকে বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানি জনগণকে বলেছেন—সহায়তা আসছে। এখন কিছু না করলে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।”
ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় বিক্ষোভের প্রকৃত চিত্র জানানো কঠিন। ট্রাম্পের বার্তায় বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অন্তত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘ঢাল’ পাওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। কৌশলগত দিক থেকেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত ইরান অভ্যন্তরীণভাবে দুর্বল এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ঘিরে উত্তরাধিকার প্রশ্নও অনিশ্চিত।
তবে ইতিহাস সতর্ক করছে—ভিয়েতনাম, ইরাক, আফগানিস্তান ও লিবিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ শুরুতে যুক্তিসঙ্গত মনে হলেও পরিণতি জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানে বাইরের চাপ দিয়ে গণতন্ত্র চাপানো কঠিন। ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, “এতে বিক্ষোভকারীরা রক্ষা পাবে কি না—আপনি কখনওই নিশ্চিত হতে পারেন না।”
সূত্র: সিএনএন


