অনলাইন ডেস্ক

সংগীতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের ৬৮তম আয়োজনে ইতিহাস গড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় র্যাপ তারকা কেনড্রিক লামার। এবারের আসরে পাঁচটি পুরস্কার জিতে র্যাপারদের মধ্যে সর্বোচ্চ গ্র্যামি জয়ের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে এতদিন জে-জির দখলে থাকা রেকর্ড ভেঙেছেন লামার। বর্তমানে তার ঝুলিতে মোট গ্র্যামির সংখ্যা ২৭টি।
বিনোদনবিষয়ক ম্যাগাজিন ভ্যারাইটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত ক্রিপ্টো ডটকম অ্যারিনায় অনুষ্ঠিত হয় এবারের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস। জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বের সেরা সংগীতশিল্পীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। মোট ৯৫টি বিভাগের মধ্যে প্রাক্-সম্প্রচার পর্বেই ঘোষণা করা হয় ৮৬টি বিভাগের বিজয়ীদের নাম।
গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ‘সং অব দ্য ইয়ার’-এ বিজয়ী হয়েছেন বিলি আইলিশ। তার জনপ্রিয় গান ‘ওয়াইল্ডফ্লাওয়ার’ এই সম্মান অর্জন করে। অন্যদিকে ‘ডেবি তিয়ার মাস ফোতোস’ অ্যালবামের জন্য ‘অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার জিতেছেন ব্যাড বানি। স্প্যানিশ ভাষার সংগীতে এটি একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন, যা সংগীত ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
পুয়ের্তোরিকোর শিল্পী ব্যাড বানি—যার প্রকৃত নাম বেনিতো আন্তোনিও মার্তিনেজ ওকাসিও—বিশ্বজুড়ে নিজের স্বতন্ত্র স্টাইল ও সংগীত দিয়ে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। ‘রেকর্ড অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার অর্জন করেছেন কেনড্রিক লামার ও সিজা, তাদের জনপ্রিয় গান ‘লুথার’-এর জন্য।
ব্রিটিশ গায়িকা লোলা ইয়াং ‘মেসি’ গানের জন্য জিতেছেন ‘সেরা পপ সলো পারফরম্যান্স’ বিভাগে পুরস্কার। অন্যদিকে ‘বেস্ট অডিওবুক, ন্যারেশন অ্যান্ড স্টোরিটেলিং রেকর্ডিং’ বিভাগে প্রথমবারের মতো গ্র্যামি জিতে ইতিহাস গড়েছেন ৯০ বছর বয়সী তিব্বতি আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা। তার বিজয়ী অ্যালবামের নাম ‘মেডিটেশানস: দ্য রিফ্লেকশানস অব হিস হোলিনেস দ্য দালাই লামা’।
এছাড়া কে-পপ সংগীতের জন্যও এবারের গ্র্যামি ছিল স্মরণীয়। ‘কেপপ ডেমন হান্টার্স’-এর গান ‘গোল্ডেন’ প্রথম কে-পপ গান হিসেবে গ্র্যামি জিতে ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।
পুরস্কার বিতরণের পাশাপাশি সংগীতানুষ্ঠানে মুগ্ধ করেন রোজে, ব্রুনো মার্স, লেডি গাগা, জাস্টিন বিবার, টেইলর দ্য ক্রিয়েটর ও রেজিনা কিং। প্রয়াত কিংবদন্তি রক তারকা অজি অসবোর্নের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ সংগীত পরিবেশন করেন পোস্ট ম্যালোন, স্ল্যাশ ও চ্যাড স্মিথ।
সব মিলিয়ে ৬৮তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস ছিল রেকর্ড, আবেগ আর বৈচিত্র্যে ভরপুর এক স্মরণীয় আয়োজন।


