অনলাইন ডেস্ক

নিউ দিল্লি, ২৪ ডিসেম্বর: মার্কিন কংগ্রেসে সম্প্রতি জমা দেওয়া বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা নেতারা তাদের “মহান পুনর্জাগরণ” অর্জনের লক্ষ্যে ভারতের অরুণাচল প্রদেশ, তাইওয়ান এবং দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় পুরো অংশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই আকাঙ্ক্ষাকে চীনের “মূল লক্ষ্য” হিসেবে অভিহিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন ২০৪৯ সালের মধ্যে এই লক্ষ্য অর্জন করতে চায়। এর মধ্যে তাইওয়ানকে চীনের সঙ্গে একীভূত করা একটি “স্বাভাবিক প্রয়োজনীয়তা” হিসেবে বিবেচনা করছে বেইজিং। নতুন কৌশল অনুযায়ী, পুনর্জাগরণকৃত চীন বিশ্বব্যাপী প্রভাবশালী ভূমিকা নেবে এবং এমন একটি সামরিক শক্তি গড়ে তুলবে, যা যেকোনো অভিযানে লড়াই করতে ও জয় অর্জন করতে সক্ষম হবে। একইসঙ্গে দেশটির ভৌগলিক অখণ্ডতা, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা হবে।
প্রতিবেদনে পাকিস্তান ও চীনের সামরিক সম্পর্কও উল্লেখযোগ্যভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদের সঙ্গে চীনের সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হচ্ছে। যৌথভাবে তারা জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান তৈরি করছে, এবং পাকিস্তান একমাত্র দেশ যারা জে-১০ যুদ্ধবিমান কিনতে পারছে। এছাড়া চীন পাকিস্তানকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে আটটি ইউয়ান-ক্লাস সাবমেরিন সরবরাহের পরিকল্পনা করছে।
মার্কিন প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চীনের লিবারেশন আর্মি পাকিস্তানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের কথাও ভাবছে। এ ছাড়া পাকিস্তান ছাড়াও কয়েকটি দেশের কাছে চীন ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে।
এই প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট হয়, চীনের ‘মহান পুনর্জাগরণ’ কৌশল কেবল ভৌগলিক সীমানা সংরক্ষণে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সামরিক ও কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্য রয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া


