স্পোর্টস ডেস্ক

৬৫ রানের বড় ব্যবধানে জিতলেই কেবল সেমিফাইনালের পথ খুলত—সমীকরণটা পরিষ্কারভাবেই জানা ছিল পাকিস্তানের। সেই লক্ষ্যেই পাল্লেকেল্লেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন দুই ওপেনার Sahibzada Farhan ও Fakhar Zaman। তবে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ব্যবধানে জিততে না পারায় নেট রান রেটে পিছিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে পাকিস্তানকে। সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে New Zealand national cricket team।
ঝড়ো সূচনা, রেকর্ড জুটি
আগে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লেতেই ৬৪ রান তোলে পাকিস্তান। মাত্র ৯.৫ ওভারে দলীয় শতক পূর্ণ হয়। ১৪ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে ১৫০ রান—লঙ্কান বোলারদের ওপর তখন পুরো নিয়ন্ত্রণ পাকিস্তানের।
ফারহান-ফখর জুটি গড়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৭৭ রানের উদ্বোধনী জুটি। ৪২ বলে ৮৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দুশমন্থ চামিরার বলে বোল্ড হন ফখর। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৪টি ছক্কা।
অন্যপ্রান্তে অনড় ছিলেন ফারহান। ৫৯ বলে তুলে নেন চলতি আসরে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে দুটি শতক হাঁকানো প্রথম ব্যাটার এখন তিনি। শেষ পর্যন্ত ঠিক ১০০ রানে আউট হন এই ডানহাতি ব্যাটার। টুর্নামেন্টে তাঁর মোট সংগ্রহ ৩৮৩ রান—এটাই আসরের সর্বোচ্চ।
শেষদিকে ধস
দুর্দান্ত সূচনার পরও ইনিংসটা বড় সংগ্রহে রূপ দিতে পারেনি পাকিস্তান। শেষ ৩৪ রানে হারায় ৮ উইকেট। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে তোলে ২১২ রান—যা প্রয়োজনীয় ব্যবধান নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
শানাকার লড়াই, তবু অল্পের হার
২১৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। ৮ রানে ফেরেন পাথুম নিশাঙ্কা। ৭৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগতিকরা। স্পিনার আবরার আহমেদ ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে প্রভাব রাখেন। একটি করে উইকেট পান শাহিন আফ্রিদি, নাসিম শাহ ও মোহাম্মদ নওয়াজ।
তবুও হাল ছাড়েননি শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা। পাভান রত্নায়েক ও অধিনায়ক Dasun Shanaka মিলে গড়েন ৬১ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। ৩৭ বলে ৫৮ রান করে রত্নায়েক ফিরলেও শানাকা লড়াই চালিয়ে যান শেষ পর্যন্ত।
শেষ ১২ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৪৬ রান। শানাকার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ম্যাচে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। ৮টি ছক্কা ও ২টি চারে ৩১ বলে ৭৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ২০৭ রানে থামে শ্রীলঙ্কার ইনিংস।
জয়, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অধরা
৫ রানের জয় পেলেও ৬৫ রানের প্রয়োজনীয় ব্যবধান নিশ্চিত করতে না পারায় নেট রান রেটে পিছিয়ে পড়ে পাকিস্তান। ফলে গ্রুপপর্বেই শেষ হলো তাদের বিশ্বকাপ অভিযান। নাটকীয় এই সমীকরণে শেষ হাসি হেসেছে নিউজিল্যান্ড, তারাই জায়গা করে নিয়েছে সেমিফাইনালে।


