অনলাইন ডেস্ক

২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী বা কিশোরী তার ঘনিষ্ঠ সঙ্গী বা পরিবারের কোনো সদস্যের হাতে নিহত হয়েছেন—জাতিসংঘের এক নতুন প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে। নারীহত্যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ভয়াবহতা নতুন করে সামনে এনেছে।
জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক কার্যালয় (UNODC) এবং জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংস্থা (UN Women) যৌথভাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে সারা বিশ্বে প্রায় ৫০ হাজার নারী ও কিশোরী তাদের নিকটজনের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে স্বামী, সঙ্গী, প্রাক্তন সঙ্গী বা পরিবারের সদস্যদের দ্বারা।
কোনো অগ্রগতি নেই, বরং উদ্বেগ বাড়ছে
জাতিসংঘ জানায়, নারীহত্যা রোধে বৈশ্বিক অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। বরং নারীর প্রতি সহিংসতার গভীর-প্রোথিত সামাজিক কাঠামো, অসম ক্ষমতার সম্পর্ক এবং বিচারহীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকাংশ নারী হত্যার ঘটনা এখনও তদন্তের পর্যায়েও পৌঁছে না; অপরাধীদের অনেকেই শাস্তির মুখ দেখে না।
গৃহ-পরিসরই সবচেয়ে ঝুঁকির জায়গা
প্রতিবেদনটি বলছে, নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন নিজ গৃহেই। বিশ্বজুড়ে নারীহত্যার অর্ধেকের বেশি ঘটে গৃহ বা পারিবারিক পরিবেশে, যেখানে অপরাধী প্রায়ই পরিচিত ও বিশ্বাসভাজন ব্যক্তি।
নারীহত্যা প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা দরকার
জাতিসংঘ নারীহত্যা প্রতিরোধে রাষ্ট্রগুলোকে কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে—
-
নারীর প্রতি সহিংসতার মামলা তদন্তে বিশেষ ইউনিট গঠন
-
ঝুঁকিপূর্ণ নারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও সহায়তা সেবা জোরদার
-
সামাজিক ও আইনি কাঠামোর সংস্কার
-
নারী ও কিশোরীদের সুরক্ষায় তথ্যভিত্তিক নীতি গ্রহণ
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নারীহত্যা শুধু অপরাধ নয়, এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে চরম রূপ। বিশ্বব্যাপী সমাজ ও সরকারগুলোকে এই সহিংসতা প্রতিরোধে আরও দৃঢ় ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।


