আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ঢাকা, ২৮ মার্চ: পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট Strait of Hormuz ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যেখানে সাম্প্রতিক সংঘাত পরিস্থিতির মধ্যে নৌচলাচল, জ্বালানি পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সূত্রে বলা হচ্ছে, সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই জলপথে নিয়ন্ত্রণ ও ফি আদায়ের মতো পদক্ষেপ সামনে এসেছে।
টোল বা ফি ব্যবস্থা চালুর অভিযোগ
রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী নৌযানগুলোর জন্য একটি অনুমোদন ও ফি-ভিত্তিক ব্যবস্থা কার্যত চালু করেছে। যদিও এর পূর্ণাঙ্গ আইনি কাঠামো এখনো প্রক্রিয়াধীন, সামুদ্রিক নজরদারি সংস্থাগুলো বলছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নৌযান অনুমোদন ও রুট নির্ধারণের একটি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে কার্যকর রয়েছে।
কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যুক্তি দেখিয়ে নির্দিষ্ট নৌযান থেকে বিপুল অঙ্কের ফি আদায় করা হচ্ছে, যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সীমিত।
নৌযান চলাচলে বড় ধরনের চাপ
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রণালীর দুই পাশে বিপুল সংখ্যক বাণিজ্যিক জাহাজ অপেক্ষমাণ রয়েছে। বিকল্প দীর্ঘ রুট ব্যবহার না করে অনেক নৌযান পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থায় জ্বালানি পরিবহন কার্যক্রমে বড় ধরনের ধীরগতি তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব
হরমুজ প্রণালী বিশ্বে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) পরিবহনের অন্যতম প্রধান রুট। আন্তর্জাতিক জ্বালানি প্রবাহের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে ওঠানামা দেখা দিয়েছে বলে বিভিন্ন অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে এশিয়ার আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে জ্বালানি ব্যয় ও শিল্প উৎপাদনে চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আইনগত বিতর্ক
জাতিসংঘ সমুদ্র আইন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা স্বীকৃত হলেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কিছু বিশ্লেষকের মতে, প্রণালীর ভৌগোলিক জটিলতা এবং আঞ্চলিক জলসীমার ওভারল্যাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি খাতের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা এই পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিকভাবে নৌচলাচল স্বাভাবিক রাখার আহ্বান জানাচ্ছে বলে জানা গেছে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। পরিস্থিতির অগ্রগতি আন্তর্জাতিক বাজার ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।


