অনলাইন ডেস্ক

সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস)–এর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে জানায়, ‘অপারেশন হক আই স্ট্রাইক’–এর অংশ হিসেবে সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলের একাধিক স্থানে আইএসের ঘাঁটি, অস্ত্রভান্ডার ও চলাচলপথে সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে। এই অভিযান গত ১৩ ডিসেম্বর পালমিরায় আইএস বন্দুকধারীদের হামলায় তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়া হিসেবে পরিচালিত হয়।
পালমিরা সিরিয়ার একটি কৌশলগত ও ঐতিহাসিক শহর, যা ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের জন্য পরিচিত। একসময় শহরটি আইএসের নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং সংগঠনটি সেখানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল।
সেন্টকমের বিবৃতিতে কঠোর ভাষায় বলা হয়,
“আমাদের বার্তা স্পষ্ট—তোমরা যদি আমাদের সেনাদের ক্ষতি করো, ন্যায়বিচার এড়িয়ে যাওয়ার যতই চেষ্টা করো না কেন, পৃথিবীর যেখানেই থাকো, আমরা তোমাদের খুঁজে বের করব এবং হত্যা করব।”
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক কর্মকর্তার তথ্যমতে, অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ২০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ৩৫টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ৯০টিরও বেশি নিখুঁত হামলা চালিয়েছে। অভিযানে অংশ নেয় এফ-১৫ই, এ-১০, এসি-১৩০জে গানশিপ, এমকিউ-৯ রিমোট পাইলটেড এয়ারক্রাফট এবং জর্ডানিয়ান এফ-১৬ যুদ্ধবিমান।
তবে এখন পর্যন্ত ঠিক কোন কোন স্থানে হামলা চালানো হয়েছে কিংবা এতে আইএসের কতজন সদস্য নিহত বা আহত হয়েছে—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বেসামরিক হতাহতের বিষয়েও কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিরাপত্তা অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে আইএসকে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ না দিতে ওয়াশিংটন যে আগ্রাসী কৌশল অবলম্বন করছে, এ অভিযান তারই প্রতিফলন।
সূত্র: বিবিসি, গার্ডিয়ান


