বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক

বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমরা গান বা ভিডিও এক ক্লিকে শোনার সুবিধা পাচ্ছি। স্পটিফাই, অ্যাপল মিউজিক বা ইউটিউবের মাধ্যমে আমাদের পছন্দের কনটেন্ট মুহূর্তের মধ্যে কানে পৌঁছে। তবে ৪০ বছর আগে, গান শোনার জন্য মানুষকে স্বর্ণ-রঙের চকচকে ডিস্ক কিনতে হতো। সেই ডিস্ককে পিসি বা ডিভিডি প্লেয়ারের ট্রেতে রাখলে যে “শোঁ-শোঁ” শব্দ হত, তা ছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
সিডি কি, এবং কীভাবে কাজ করে?
সিডি বা কমপ্যাক্ট ডিস্ক ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত একটি মাধ্যম। ভিনাইল রেকর্ড বা ক্যাসেটের মতো অ্যানালগ না হয়ে, সিডি সম্পূর্ণ ডিজিটাল। অর্থাৎ, এতে তথ্য থাকে শুধুই ০ এবং ১-এর মাধ্যমে।
সিডির উল্টো পিঠের চকচকে অংশের নিচে কোটি কোটি ছোট ছোট গর্ত (পিটস) এবং সমতল অংশ (ল্যান্ডস) খোদাই করা থাকে। এই পিট ও ল্যান্ডসের আকার মাপা হয় মাইক্রোমিটারে, যা মানুষের চুলের চেয়েও কয়েকগুণ ছোট।
গান বাজানোর প্রক্রিয়া
সিডি প্লেয়ারে ডিস্ক ঢোকানোর পর এটি খুব উচ্চ গতিতে ঘুরতে থাকে। নিচ থেকে একটি সূক্ষ্ম লেজার রশ্মি সিডির পৃষ্ঠের ওপর ফেলা হয়।
-
যখন লেজার আলো সমতল অংশে পড়ে, তা সরাসরি সেন্সরে ফিরে আসে।
-
কিন্তু যখন আলো পিটে পড়ে, তা ছড়িয়ে যায় এবং সেন্সরে ঠিকভাবে পৌঁছায় না।
সেন্সর এই আলো ফিরে আসার পার্থক্য শনাক্ত করে, যা ০ এবং ১-এর বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তরিত হয়। এই সংকেত স্পিকারের মাধ্যমে সুমধুর গান হিসেবে আমাদের কানে পৌঁছে।
সিডি বার্ন বা লিখন
২০০০-এর দশকে “সিডি বার্ন” খুব পরিচিত শব্দ ছিল। এর অর্থ ছিল কম্পিউটারের সাহায্যে খালি সিডিতে নিজের পছন্দের গানের তথ্য লেজার দিয়ে লেখা।
-
সাধারণ সিডিতে পিটগুলো কারখানায় আগে থেকেই খোদাই করা থাকে।
-
ব্ল্যাঙ্ক সিডিতে পিট নেই, কিন্তু আলোক-সংবেদনশীল রাসায়নিক স্তর থাকে।
-
কম্পিউটারের লেজার সেই স্তরকে গরম করে ছোট ছোট কৃত্রিম পিট তৈরি করে।
বার বার লেখা যায় এমন সিডিতে লেজারের মাধ্যমে রাসায়নিক স্তর পরিবর্তন করে পিট তৈরি ও মুছে ফেলা যায়।
সিডি বনাম ভিনাইল রেকর্ড
ভিনাইল রেকর্ডে গান বাজানোর জন্য স্টাইলাস সরাসরি রেকর্ডের খাঁজে ঘষা খায়। তাই তা ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়।
কিন্তু সিডিতে লেজার আলোর মাধ্যমে গান বাজানো হয়, কোনো স্পর্শ নেই, তাই সিডি অনেক দিন টেকে, যদি না স্ক্র্যাচ পড়ে।
মাত্র ১২ সেন্টিমিটার ব্যাসের প্লাস্টিকের এক ছোট ডিস্কের ভিতরে লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোটি কোটি তথ্য সংরক্ষণ এবং তা পড়ে গান বাজানো—এটি নিঃসন্দেহে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক বিস্ময়। সিডি প্রযুক্তি আমাদের বর্তমান ডিজিটাল যুগের ভিত্তি স্থাপন করেছে, যদিও আজকাল এটিকে অনেকেই পুরনো মনে করে।


