বিজ্ঞান প্রতিবেদক

সাহারা মরুভূমির বিশাল ধুধু বালির সমুদ্রের মাঝখানে অবস্থিত এক রহস্যময় গঠন, যা পৃথিবীর ভূতত্ত্ববিদদের কৌতূহলকে যুগ যুগ ধরে আকৃষ্ট করে চলেছে। মৌরিতানিয়ার এই অদ্ভুত চক্রাকার গঠনটি বিজ্ঞানীরা ‘রিচাট স্ট্রাকচার’ নামে চেনে। তবে সাধারণ মানুষের কাছে এটি ‘সাহারার চোখ’ নামেই বেশি পরিচিত।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ইসা) সম্প্রতি কোপার্নিকাস সেন্টিনেল-২ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এই চোখের একটি চমৎকার ছবি প্রকাশ করেছে। মহাকাশ থেকে তোলা ছবিতে এই গঠন যেন জীবন্ত হয়ে আমাদের সামনে উন্মোচিত হয়েছে। এর চক্রাকৃতি এবং সুনিপুণ জ্যামিতিক রূপ, বালির সমুদ্রের মাঝখানে এক বিরল দৃশ্য সৃষ্টি করছে।
বিশালতা ও আকৃতি:
রিচাট স্ট্রাকচারের ব্যাস প্রায় ৩১ মাইল বা ৫০ কিলোমিটার। মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ এটি পুরোপুরি দেখতে পারে না। মরুভূমির ধুলো, বালির পাহাড় ও প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতার কারণে এর আসল আকৃতি বুঝা কঠিন। কিন্তু মহাকাশ থেকে এটি দেখলে মনে হয়, যেন কেউ বিশাল এক বুলস আই বা নিশানার গোল্লা আঁকেছেন। পাথরের তৈরি এই চক্র বা স্পাইরাল পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় ভূ-গঠনগুলোর মধ্যে একটি।
ভূতাত্ত্বিক ধারণা:
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এটি মূলত ভগ্নাপসৃত প্রাচীন পাহাড় ও আগ্নেয়গিরির কার্যক্রমের ফলে তৈরি একটি প্রাকৃতিক গঠন। কিছু গবেষক এটিকে প্রাচীন গাছপালা বা ভূমিকম্পজনিত ক্রিয়ার ফলাফল হিসেবেও বিশ্লেষণ করেছেন। তবে যে কোনো অবস্থাতেই, এর সুনিপুণ চক্রাকার আকৃতি এবং বিশালতা এটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক বিস্ময়গুলোর মধ্যে পরিণত করেছে।
সাহারার চোখ শুধুমাত্র ভূতত্ত্ববিদদের জন্য নয়, মহাকাশপ্রেমী ও পর্যটকদের জন্যও এক অনন্য আকর্ষণ। এটি প্রমাণ করে, পৃথিবীর সৌন্দর্য ও রহস্য কেবল আমাদের মাটিতে সীমাবদ্ধ নয়; মহাকাশ থেকেও এই রহস্যময় চেহারাগুলো জীবন্ত হয়ে আমাদের চোখে ধরা দেয়।


