শোবিজ ডেস্ক

বলিউড সুপারস্টার Salman Khan অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। আগে যার নাম ছিল ‘ব্যাটল অব গালওয়ান’, এখন সেটির নতুন শিরোনাম রাখা হয়েছে ‘মাতৃভূমি: মে ওয়ার রেস্ট ইন পিস’।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন পোস্টার প্রকাশ করে নাম পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সালমান খান। নতুন পোস্টারে দেখা যায়, রক্তমাখা কাঠের গুঁড়ির আড়াল থেকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন তিনি—যা সিনেমাটির যুদ্ধঘন আবহকে তুলে ধরে।
নাম পরিবর্তনের কারণ
চলচ্চিত্রটির পরিচালক Apoorva Lakhia জানান, নাম পরিবর্তন কোনো হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়। শুরু থেকেই সিনেমাটির জন্য দুটি শিরোনাম নিবন্ধিত ছিল—‘ব্যাটল অব গালওয়ান’ এবং ‘মাতৃভূমি’।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্মাণ প্রক্রিয়ায় তারা উপলব্ধি করেন যে সিনেমাটি কেবল একটি যুদ্ধের ঘটনা তুলে ধরে না; এর ভেতরে রয়েছে মানবিকতা, সহমর্মিতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের মানসিক সংগ্রামের গল্প। সিনেমার একটি গুরুত্বপূর্ণ গানের নামও ‘মাতৃভূমি’ হওয়ায় এই শিরোনামটি গল্পের আবেগের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেছেন নির্মাতারা।
বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণা
চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে Galwan Valley clash–এর বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায়। ২০২০ সালে ভারত ও চীনের সেনাদের মধ্যে লাদাখ অঞ্চলের গালওয়ান উপত্যকায় সংঘটিত ওই সংঘর্ষ দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র করে তোলে এবং এতে উভয় পক্ষের সেনা হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সিনেমায় সালমান খান অভিনয় করছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ১৬ বিহার রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার Santosh Babu–এর চরিত্রে, যিনি সংঘর্ষের সময় ভারতীয় সেনাদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ওই সংঘর্ষে তিনি নিহত হন এবং পরে ভারতের পক্ষ থেকে তাকে মরণোত্তর বীরত্ব সম্মাননা দেওয়া হয়।
অভিনয়শিল্পী
সালমান খানের বিপরীতে প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করছেন Chitrangada Singh। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন Abhilash Chaudhary ও Ankur Bhatia।
চীনে সমালোচনার ঝড়
চলচ্চিত্রটির টিজার প্রকাশের পর থেকেই প্রতিবেশী দেশ চীনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। চীনের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Weibo–তে অনেক নেটিজেন দাবি করেছেন, সিনেমাটিতে গালওয়ান সংঘর্ষের ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোও সিনেমাটিকে ‘উগ্র জাতীয়তাবাদ প্রচারের প্রচেষ্টা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
ভারতের অবস্থান
এদিকে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো অবস্থান নেয়নি Ministry of External Affairs। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলচ্চিত্র নির্মাণ ও মুক্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এখতিয়ারভুক্ত; এতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো ভূমিকা নেই।
মুক্তির সময় পরিবর্তন
প্রথমে সিনেমাটি আগামী ১৭ এপ্রিল মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও সাম্প্রতিক বিতর্ক ও পরিস্থিতি বিবেচনায় মুক্তির সময় পিছিয়ে আগস্টে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্মাতা পক্ষ।
সূত্র: NDTV


