অনলাইন ডেস্ক

মাদক পাচার ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই আমন্ত্রণকে কূটনৈতিক অবস্থানে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ৩ জানুয়ারি কলম্বিয়ার প্রতিবেশী দেশ ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর ট্রাম্প কলম্বিয়ার বিরুদ্ধেও কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি কলম্বিয়ার ক্ষেত্রেও সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, “শুনতে তো খারাপ লাগছে না।”
এই বক্তব্যের পর ওয়াশিংটন ও বোগোটার মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়। তবে বুধবার প্রথমবারের মতো টেলিফোনে কথা বলার পর দুই নেতার মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। আলোচনার পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, প্রেসিডেন্ট পেত্রো তাকে ফোন করে মাদক পরিস্থিতি ও দ্বিপক্ষীয় মতপার্থক্য নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। ট্রাম্প বলেন, পেত্রোর কথাবার্তার ধরন তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন এবং শিগগিরই হোয়াইট হাউসে সরাসরি সাক্ষাতের প্রত্যাশা করছেন।
এর আগে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পেত্রো ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ আনেন এবং তাদের ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এই পদক্ষেপ কলম্বিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। জবাবে প্রেসিডেন্ট পেত্রো কড়া ভাষায় বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজন হলে তিনি “অস্ত্র হাতে প্রতিরোধে প্রস্তুত।”
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক হুমকি ও নিষেধাজ্ঞার পর হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানো যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলে একটি কূটনৈতিক পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেয়। আসন্ন বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কতটা প্রশমিত হয় এবং মাদক পাচার ইস্যুতে কী ধরনের সমঝোতা হয়, সেদিকে এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর।


