সাভার প্রতিনিধি

সাভারের আশুলিয়ায় ভাড়া বাসা থেকে Jahangirnagar University-এর এক শিক্ষার্থীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
নিহত শারমীন জাহান খাদিজা (২৫) বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি চাঁদপুর জেলার Kachua Upazila-র তেতৈয় গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান মোল্লার মেয়ে। গ্রেফতার হওয়া ফাহিম আল হাসান (২২) Dhaka College-এর অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং কুমিল্লার Muradnagar Upazila-র খুইরুল গ্রামের মো. হানিফ সরকারের ছেলে।
স্বামীকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন
Ashulia Police Station-এর পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজগর হোসেন জানান, ঘটনার পরপরই শারমীনের স্বামী ফাহিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে নিহতের চাচা মনিরুল ইসলামের দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সোমবার সকালে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনসহ তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
প্রেমের পর বিয়ে, পরে কলহ
মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রেমের সম্পর্কের পর গত বছরের ২৪ জুন শারমীন ও ফাহিম বিয়ে করেন এবং পরে বিষয়টি দুই পরিবারকে জানান। একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তারা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন।
তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ চলছিল বলে পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন শারমীন।
ফোনে অসুস্থতার খবর, গিয়ে মিলল রক্তাক্ত দেহ
এজাহার সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ফাহিম ফোন করে শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলামকে জানান যে শারমীন গুরুতর অসুস্থ। খবর পেয়ে তিনি বাসায় গিয়ে শারমীনকে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে সাভারের Enam Medical College Hospital-এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সুরতহাল প্রতিবেদনে শারমীনের কপালের ডান পাশে এবং মাথার ওপর গভীর কাটা জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ফাহিম আল হাসান অজ্ঞাত সহযোগীদের সহায়তায় পরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে শারমীনকে হত্যা করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শোক
ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন Mohammad Kamrul Ahsan। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম ব্যাচের লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী শারমীন জাহান ইসলামনগরের ভাড়া বাসায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।
শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ও বিচার দাবি
হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে Jahangirnagar University Central Students’ Union (জাকসু), Bangladesh Students’ Union-এর একাংশ এবং Jatiya Chhatra Shakti বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
জাকসুর সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, শারমীনের মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন এবং বাসা থেকে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দেয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন নৃশংস মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।


