ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী তাদের ব্যবহার করতে চেয়েছিল। তবে শরিয়া বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার না থাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কোনো জোটে যায়নি। পরিবর্তনের লক্ষ্যে ঝুঁকি নিয়েই তারা নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।
গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার স্থানীয় পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমরা একা নই। আমাদের সঙ্গে আল্লাহ আছেন।”
চরমোনাই পীর আরও বলেন, ভালো নীতি, ভালো নেতা ও ভালো আদর্শ থাকলে আদর্শবান নেতৃত্ব খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর মতো শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে পারে। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার—এই তিনটির বাস্তবায়নের প্রকৃত নামই হলো ইসলাম।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে যারা বিএনপি জোট বা জামায়াত জোট থেকে নির্বাচন করছে, তারা কেউই ইসলামকে রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রতিষ্ঠা করতে চায় না। একমাত্র ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশই ইসলামকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে রয়েছে।
নির্বাচনী কৌশল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই এখনো মাঠে নামেননি। মনে রাখতে হবে, প্রার্থী বড় কথা নয়—মার্কাই বড়। যারা ইসলামী আন্দোলনকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে, তাদের জবাব ভোটের মাধ্যমেই দিতে হবে।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নবীনগর উপজেলা সভাপতি জসিম উদ্দিন সরকার। এতে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম নজু, জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা গাজী নিয়াজুল কারীম, আইম্ম পরিষদের সভাপতি মুফতি আবদুল্লাহ আল কাসেমী, জিয়াউল হক সরকার, হাবিবুর রহমান মিজবাহ, আহমদ আবদুল কাইয়ুম ও মাওলানা মেহেদি হাসান।
সমাবেশের একপর্যায়ে চরমোনাই পীর প্রার্থী নজরুল ইসলামের হাতে দলীয় প্রতীক ‘হাতপাখা’ তুলে দেন এবং উপস্থিত জনতার প্রতি হাতপাখা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।


