অনলাইন ডেস্ক

লেবাননে সাম্প্রতিক বিমান হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা যুদ্ধবিরতি থেকে সরে গিয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, লেবাননে সংঘটিত হামলা এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাব দেওয়া হবে। তার ভাষায়, “ইসরায়েল প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্য পরিচিত এবং তাদের কেবল শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।”
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা Fars News Agency এক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তেহরান ইতোমধ্যে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। পরিস্থিতি দ্রুতই আরও জটিল আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, ঘোষিত যুদ্ধবিরতি লেবাননে তাদের চলমান সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তবে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্ত পাকিস্তান বলছে, এই যুদ্ধবিরতি পুরো অঞ্চলজুড়ে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, যার মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননের রাজধানী বৈরুত-এর বিভিন্ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা লক্ষ্য করে আকস্মিক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। স্থানীয় সূত্র ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত ৮৯ জন নিহত এবং সাত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এটি চলমান অভিযানের অন্যতম বৃহৎ সমন্বিত হামলা। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে শতাধিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে, যার বেশিরভাগই Hezbollah সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা হয়েছে। হামলাগুলো বৈরুত ছাড়াও দক্ষিণ লেবানন এবং পূর্বাঞ্চলের বেকা উপত্যকাজুড়ে পরিচালিত হয়।
হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে এবং আতঙ্কে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। ব্যস্ত সময়ে আকস্মিক বিস্ফোরণে থমকে যায় নগরীর স্বাভাবিক গতি। অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি আবারও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে ইরান সরাসরি সম্পৃক্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


