অনলাইন ডেস্ক

মস্কো: সব পক্ষ যদি প্রকৃত রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখায়, তাহলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন চুক্তি হওয়া সম্ভব—এমন মন্তব্য করেছে রাশিয়া। তবে শুধু চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেই সফলতা নিশ্চিত হবে না বলে সতর্ক করেছে মস্কো।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওলেগ পোস্টনিকভ বলেছেন, ২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি বা যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) প্রমাণ করেছে যে কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির কার্যকারিতা নির্ভর করে তার নিয়মিত ও সঠিক বাস্তবায়নের ওপর। কেবল কাগজে সই করলেই কোনো চুক্তি টেকসই হয় না।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম স্পুতনিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পোস্টনিকভ বলেন, আলোচনায় অংশ নেওয়া দেশগুলো সত্যিকার অর্থে সমাধান চায় কি না—সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। তার মতে, আলোচনা হওয়া উচিত কেবল ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই। ইরানের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি বা বৈষম্যমূলক শর্ত আরোপের বিপক্ষে অবস্থান নেয় রাশিয়া।
এদিকে ইরান পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতভেদ এখনো কাটেনি। ২০১৫ সালে গৃহীত রেজুলেশন ২২৩১ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর নজরদারি ও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
ইরানের দাবি, ওই রেজুলেশনের মেয়াদ গত বছরের ১৮ অক্টোবর শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে দেশটির ওপর কোনো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর নেই। তবে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি আবারও নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে, যা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
এই বিষয়ে চীন ও রাশিয়া ইরানের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে একতরফাভাবে জেসিপিওএ থেকে সরে যাওয়ায় ‘স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল’ বা স্ন্যাপব্যাক ব্যবস্থার আইনগত ভিত্তি আর নেই।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানির দাবি, ইরান চুক্তির শর্ত মানছে না বলেই নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরে আসা উচিত। তবে মস্কো ও বেইজিং বলছে, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির বাইরে থাকায় এই প্রক্রিয়া আর কার্যকর করা সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, পারস্পরিক আস্থাহীনতা ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ইরান পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
সূত্র: শাফাক নিউজ


