অনলাইন ডেস্ক

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি হাসপাতালে সামরিক জান্তা বাহিনীর পরিচালিত ভয়াবহ বিমান হামলায় কমপক্ষে ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭০ জনেরও বেশি মানুষ। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সূত্র ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এপি নিউজ।
আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইন থু খা জানান, সামরিক বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান হাসপাতালটির ওপর বোমা নিক্ষেপ করলে ভবনটির বড় অংশ ধসে পড়ে এবং ভেতরে থাকা রোগী, চিকিৎসাকর্মী ও সাধারণ মানুষ হতাহত হন। তিনি জানান, হামলা চালানো হয়েছে এমন একটি স্থাপনায়, যেখানে কোনো সামরিক উপস্থিতি ছিল না। তবে এ ঘটনায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাখাইন রাজ্যের উপকূলীয় অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই জান্তা বাহিনী ও স্থানীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত চলছে। সম্প্রতি সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর একের পর এক হামলা সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে।
এরই মধ্যে মিয়ানমারের সামরিক সরকার ঘোষণা দিয়েছে, আগামী ২৮ ডিসেম্বর থেকে দেশটিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরু হবে। তবে নির্বাচনটি দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। কেবলমাত্র জান্তা-নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতেই ভোটগ্রহণ হবে বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। বিরোধী দল ও আন্তর্জাতিক মহল এ নির্বাচনকে স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতার ঘাটতিপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে বাড়তে থাকা সামরিক অভিযান ও সহিংসতা দেশটির রাজনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। হাসপাতালে বিমান হামলার ঘটনাকে তারা মানবিক বিপর্যয়ের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করছেন।


