অনলাইন ডেস্ক

ইরানের জ্বালানি তেল সম্পদ ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাবনার কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম Financial Times-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের তেল সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা তার “পছন্দের পরিকল্পনাগুলোর একটি”। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র Kharg Island নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, “হয়তো আমরা খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেব, আবার হয়তো নেব না—আমাদের হাতে অনেক বিকল্প রয়েছে।”
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা খারগ দ্বীপ ইরানের তেল রপ্তানির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত। এই দ্বীপের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা মানে দেশটির জ্বালানি অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব বিস্তার করা। ফলে ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, খারগ দ্বীপে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুলনামূলক দুর্বল। তার ভাষায়, “আমার মনে হয় না তাদের উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে। আমরা খুব সহজেই এটি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারি।”
এ সময় তিনি লাতিন আমেরিকার দেশ Venezuela-এর উদাহরণ টেনে বলেন, জ্বালানি সম্পদের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে ইরানের পরিস্থিতির মিল রয়েছে। তিনি রাজধানী Caracas-এ মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, সেখানে একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে জ্বালানি খাত পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে ওয়াশিংটনের প্রভাব রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের তেল ও কৌশলগত স্থাপনায় সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে Iran ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য ভবিষ্যৎ ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: Al Jazeera


