অনলাইন ডেস্ক

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মার্কিন বিশেষ বাহিনী এক ঝটিত অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া অ্যাডেলা ফ্লোরেসকে আটক করেছে। এই অভিযানকে ঘিরে গোটা বিশ্ব অবাক হয়েছে, কারণ মাদুরোর অত্যন্ত সুরক্ষিত বাসভবন থেকে তাকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধরে আনা সম্ভব হয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনীর এই অভিযান সফল হয় এক বিশ্বাসঘাতকের কারণে। মাদুরোর ঘনিষ্ঠ ওই ব্যক্তি নিয়মিতভাবে তার দৈনন্দিন কার্যক্রম, সময়সূচি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-কে পাঠাচ্ছিলেন।
‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’ নামের অভিযানে অংশ নেয় মার্কিন স্পেশাল ফোর্স, সিআইএ এবং এফবিআই। দীর্ঘ মাস ধরে পরিকল্পনা এবং মহড়ার মাধ্যমে এই অভিযান বাস্তবায়িত হয়। বিশেষভাবে, ডেল্টা ফোর্স মাদুরোর নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের নকল একটি কাঠামো তৈরি করে অনুশীলন চালায়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযানের অনুমোদন দেন চার দিন আগে। শুক্রবার রাত ১০টা ৪৬ মিনিটে চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়। গভীর রাতে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো কারাকাস ও আশপাশের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এফ-৩৫, এফ-২২ এবং বি-১ বোমারু বিমানসহ ১৫০টির বেশি বিমান অভিযানে অংশ নেয়।
রাত একটার দিকে স্পেশাল ফোর্স মাদুরোর আবাসিক কমপাউন্ডে প্রবেশ করলে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়, যার ফলে একটি হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেনা ও এফবিআই সদস্যরা অত্যন্ত সুরক্ষিত ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত ভবনে ঢুকে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করে। ট্রাম্প জানান, মাদুরো একটি সেফ রুমে প্রবেশের চেষ্টা করলেও দরজা বন্ধ করতে পারেননি।
অভিযানে কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হলেও কেউ নিহত হননি। ভোর ৩টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারগুলো সমুদ্রের ওপর পৌঁছালে মাদুরো ও তার স্ত্রী সেগুলোর ভেতরে ছিলেন।


