অনলাইন ডেস্ক

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন গতি পেয়েছে। যুদ্ধ অবসানের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে শিগগিরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এই বৈঠককে কেন্দ্র করে ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি জানান, নিকট ভবিষ্যতে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, “নতুন বছরের আগেই গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হতে পারে।” তাঁর এই মন্তব্য কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগের গুরুত্বকেই সামনে এনেছে।
২০ দফা পরিকল্পনা ও মস্কোর প্রতিক্রিয়া
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদলের সর্বশেষ দফা আলোচনার পর যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি ২০ দফার পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা ইতোমধ্যে মতামতের জন্য রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে পাঠানো হয়েছে। তবে পরিকল্পনার নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এর আগে বুধবার এক ব্রিফিংয়ে জেলেনস্কি জানান, সর্বশেষ প্রস্তাবে ফ্রন্টলাইন বর্তমান অবস্থায় স্থির রাখা এবং ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের আবেদন আইনগতভাবে প্রত্যাহারের শর্ত বাতিলের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কিয়েভের পক্ষ থেকে একটি কৌশলগত নমনীয়তার ইঙ্গিত।
রাশিয়ার কঠোর অবস্থান
অন্যদিকে, মস্কো এখনো তাদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনবাস থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহার এবং ন্যাটোতে যোগদানের আকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগের দাবিতে অনড় রয়েছে। এসব ভূখণ্ডগত ও নিরাপত্তা–সংক্রান্ত দাবিই এখন পর্যন্ত শান্তি আলোচনার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে আছে।
রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা নিজেদের অবস্থান প্রস্তুত করছে এবং ইউক্রেন–যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার নির্দিষ্ট দিক নিয়ে এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করবে না।
ট্রাম্প–জেলেনস্কি বৈঠক সফল হলে যুদ্ধবিরতি কিংবা শান্তি আলোচনার নতুন কাঠামো তৈরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে রাশিয়ার অনমনীয় অবস্থান এবং যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বৈঠক আশার আলো দেখালেও দ্রুত সমাধান আসবে— এমন নিশ্চয়তা এখনো নেই।
তবুও, বছরের শেষ প্রান্তে এসে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী সংকট থেকে বেরিয়ে আসার একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


