অনলাইন ডেস্ক

চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও তেল রপ্তানি থেকে উল্লেখযোগ্য আয় করছে ইরান। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে পারা বড় রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে কার্যত একমাত্র সক্রিয় অবস্থানে থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানি তেলের চাহিদা ও মূল্য—দুটিই বেড়েছে।
রপ্তানি ও দামে দ্বিমুখী সুবিধা
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরান দুইভাবে আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে।
প্রথমত, প্রধান ক্রেতা চীন-এর কাছে আগের তুলনায় কম ছাড়ে তেল বিক্রি করছে তারা। গত ১০ মাসে এই ছাড় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় রপ্তানি থেকে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রপ্তানি স্থিতিশীল, জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক
তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পরও ইরানের তেল রপ্তানি দৈনিক প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেলে স্থিতিশীল রয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, খারগ দ্বীপের তেল টার্মিনালে নিয়মিত বড় তেলবাহী জাহাজ ভিড়ছে এবং সেখান থেকে পারস্য উপসাগর পাড়ি দিয়ে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে।
নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইঙ্গিত
অন্যদিকে, উপসাগরীয় অনেক দেশের রপ্তানি বিঘ্নিত হলেও ইরান নির্বিঘ্নে সরবরাহ বজায় রেখেছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল করেছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নীতির বিশেষজ্ঞ রিচার্ড নেফিউ মন্তব্য করেছেন, “ওয়াশিংটন কার্যত ইরানকে তেল বিক্রির সুযোগ দিচ্ছে, যদিও আগে তাদের লক্ষ্য ছিল এই রপ্তানি সীমিত করা।”
আয় বেড়ে দৈনিক ১৩৯ মিলিয়ন ডলার
মার্চ মাসে ইরান দৈনিক গড়ে প্রায় ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলারের তেল বিক্রি করছে, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের সঙ্গে ইরানি তেলের মূল্য পার্থক্যও কমে এসেছে।
সামরিক ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, এই অতিরিক্ত আয় ইরানের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং সামরিক সক্ষমতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি হিসেবেও দেশটি অতিরিক্ত আয় করছে।
উপসাগরীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের ক্ষতি
এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে কাতারের বৃহৎ গ্যাস স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
কূটনৈতিক অবস্থান অনিশ্চিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমদিকে ইরানের জ্বালানি খাতে হামলার হুমকি দিলেও পরবর্তীতে আলোচনার ইঙ্গিত দেন। তবে তেহরান সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান বজায় রেখেছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধকালীন ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তেল বাজারে কৌশলগত অবস্থান কাজে লাগিয়ে ইরান অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ভারসাম্যে নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে।


