অনলাইন ডেস্ক

দোহা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি আল উদেইদ থেকে কিছু সেনাসদস্যকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে কিছু মার্কিন সেনাকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রয়টার্সকে বিষয়টি জানানো তিনজন কূটনীতিকের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় এই ঘাঁটিতে প্রায় ১০ হাজার সেনা অবস্থান করছে। এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, এটি কোনো বাধ্যতামূলক সরিয়ে নেওয়া নয়, বরং সামরিক অবস্থান ও প্রস্তুতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
এদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে যে, ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করা হবে। ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তেহরান আঞ্চলিক দেশগুলোকে অনুরোধ করেছে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলা থেকে বিরত রাখতে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশকে ইরান সতর্ক করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তবে ওই দেশগুলোর ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোও আঘাতের লক্ষ্য হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা আরও জানিয়েছেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থগিত রয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রতিফলন।
একই সময়ে, ইসরায়েলের নিরাপত্তা সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে মঙ্গলবার গভীর রাতে ইরানে সরকার পতনের সম্ভাবনা বা যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ নিয়ে ব্রিফ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলার সময়ও মধ্যপ্রাচ্যের এই ঘাঁটি থেকে কিছু সেনা সরানো হয়েছিল। সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপও সেই পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।


