অনলাইন ডেস্ক

মানুষের রক্তের প্রতি মশার আকর্ষণ দিন দিন বাড়ছে—এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বন ধ্বংস ও জীববৈচিত্র্য কমে যাওয়ার ফলেই মশারা ক্রমে মানুষের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ব্রাজিলের আটলান্টিক অরণ্যে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, অতীতে বিভিন্ন প্রাণীর রক্ত থেকে খাদ্য গ্রহণ করলেও বর্তমানে মশাদের বড় অংশ মানুষের রক্ত শোষণ করছে।
ব্রাজিলের ফেডেরাল বিশ্ববিদ্যালয় ও অলওয়াল্ডো ক্রুজ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা এই গবেষণা পরিচালনা করেন। আটলান্টিক অরণ্য ব্রাজিল ছাড়াও প্যারাগুয়ে ও আর্জেন্টিনা পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এটি বিশ্বজুড়ে জীববৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত একটি অঞ্চল।
গবেষণায় মোট ১ হাজার ৭১৪টি মশা পরীক্ষা করা হয়, যেগুলো ছিল ৫২টি ভিন্ন প্রজাতির। এর মধ্যে ১৪৫টি ছিল স্ত্রী মশা, কারণ একমাত্র স্ত্রী মশাই রক্ত শোষণ করে। এই স্ত্রী মশাদের মধ্যে ২৪টির পেটের রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়।
পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, ২৪টি স্ত্রী মশার মধ্যে ১৮টির পেটে পাওয়া গেছে মানুষের রক্ত। বাকি মশাগুলোর পেটে ছিল ইঁদুর, পাখি, অ্যাম্ফিবিয়ান ও কুকুরজাতীয় প্রাণীর রক্ত। এই তথ্য থেকেই স্পষ্ট, বর্তমানে মশার খাদ্য তালিকায় মানুষের রক্তই প্রধান হয়ে উঠছে।
গবেষক সার্জিয়ো মাচাদো জানান, মশার খাদ্য তালিকায় মানুষের রক্তের আধিক্য বাড়ার ফলে মশাবাহিত রোগ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীকে কামড়ানোর পর মশা যখন অন্য কাউকে কামড়ায়, তখন সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মানুষের বসতি স্থাপন ও লাগাতার বন উজাড়ের কারণে আটলান্টিক অরণ্যের আয়তন ভয়াবহভাবে কমে গেছে। এক সময় যে অরণ্য বিস্তৃত ছিল বিশাল এলাকা জুড়ে, বর্তমানে তার মাত্র ৩০ শতাংশ টিকে রয়েছে। ফলে বহু প্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে বা সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
আগে যেসব প্রাণীর শরীর থেকে মশারা রক্ত শোষণ করত, সেই সুযোগ এখন অনেক কম। তাই বাধ্য হয়েই মশারা মানুষের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ডেঙ্গু, জিকা, ম্যালেরিয়া ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের প্রকোপ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।


