অনলাইন ডেস্ক

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে একযোগে ডজনখানেক ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এর ফলে নিরাপত্তাজনিত কারণে মস্কোর চারটি প্রধান বিমানবন্দরের মধ্যে তিনটিতে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। রোববার সংঘটিত এই ঘটনায় রাজধানীর আকাশসীমায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়।
রুশ সংবাদমাধ্যম ও কর্তৃপক্ষের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, ড্রোন হামলার কারণে একাধিক ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। এর মধ্যে মস্কোর দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর ভনুকোভো উল্লেখযোগ্য। এছাড়া দোমোদেদোভো ও ঝুকোভস্কি বিমানবন্দরেও সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
নিরাপত্তার কারণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা
রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা রোসাভিয়াতসিয়ার মুখপাত্র আরতেম কোরেনিয়াকো টেলিগ্রামে জানান, গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ রাখা হয়।
তিনি বলেন,
“ফ্লাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।”
পরবর্তী এক পোস্টে তিনি জানান, ভনুকোভো, দোমোদেদোভো ও ঝুকোভস্কি বিমানবন্দর এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে আংশিকভাবে পুনরায় চালু করা হয়।
২৭টি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি
এদিকে মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, রোববার রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসা অন্তত ২৭টি ইউক্রেনীয় ড্রোন রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনগুলো শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে এগোচ্ছিল।
ইউক্রেনের নীরবতা
প্রায় চার বছর ধরে চলমান এই যুদ্ধে রাশিয়ার লাগাতার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে থাকা ইউক্রেন এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার ভেতরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার সংখ্যা বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সীমান্ত অঞ্চলেও প্রাণহানি
ড্রোন হামলার প্রভাব শুধু মস্কোতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ইউক্রেন সীমান্তঘেঁষা রুশ অঞ্চল বেলগোরোদ–এর গভর্নর জানান, রোববার ভোরে একটি পারিবারিক গাড়িতে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চার বছরের এক শিশুসহ আরও দুইজন আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
যুদ্ধের বিস্তৃত প্রভাব
২০২২ সালে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে একাধিকবার ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার জেরে রাশিয়া নিজেদের আকাশসীমা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব হামলা রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে এবং যুদ্ধের পরিসর আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি


