অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অস্ট্রেলিয়ার একটি সামরিক ঘাঁটির নিকটে হামলার ঘটনা এবং ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার নিহত হওয়ায় অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী Anthony Albanese জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের Al Minhad Air Base-এর কাছে একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। এতে কোনো অস্ট্রেলীয় সেনা সদস্য হতাহত না হলেও ঘাঁটির প্রবেশপথসংলগ্ন একটি সড়কে আগুন ধরে যায়। কাছাকাছি আবাসিক ভবন ও একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিমান হামলায় দেশটির প্রভাবশালী রাজনীতিক Ali Larijani নিহত হয়েছেন। তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। চলমান সংঘাতে তার মৃত্যু ইরানের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনার জবাবে প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের সেনাপ্রধান Amir Hatami। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত ও কঠোর’ প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (Islamic Revolutionary Guard Corps) দাবি করেছে, লারিজানির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে তারা ইতোমধ্যে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার মধ্যে Tel Aviv-এ অন্তত দুজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পাশাপাশি, লেবাননে Israel-এর সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এখন আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়ে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


