অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (Islamic Revolutionary Guard Corps–আইআরজিসি)। সংস্থাটির নৌ শাখা জানিয়েছে, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ফোর’-এর ৪৯তম ধাপের অংশ হিসেবে এই সমন্বিত হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, তিনটি ভিন্ন ফরমেশনে বিভক্ত হয়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ইউনিটগুলো এই অভিযান চালায়। এতে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের Al Dhafra Air Base ঘাঁটি। সেখানে প্যাট্রিয়ট রাডার সিস্টেম, কন্ট্রোল টাওয়ার এবং বিমান বিধ্বংসী হ্যাঙ্গারের ওপর বিস্ফোরক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাহরাইনের Sheikh Isa Air Base-এর আগাম সতর্কতা রাডার ব্যবস্থা, জ্বালানি তেলের ট্যাঙ্ক এবং কেন্দ্রীয় র্যাম্পে হামলার কথা জানিয়েছে আইআরজিসি। হামলার ফলে সেখানে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করা হয়।
একই সঙ্গে কুয়েতের Ali Al Salem Air Base-সংলগ্ন আল-উদেইরি হেলিকপ্টার ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এতে সামরিক সরঞ্জামের ডিপো ও হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডার Alireza Tangsiri সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় অভিযানের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মার্কিন ঘাঁটিগুলোর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে এই হামলার পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz-এ নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে আইআরজিসি। সংস্থাটি জানিয়েছে, শত্রু রাষ্ট্র বা তাদের মিত্রদের তেলবাহী ট্যাঙ্কার কিংবা বাণিজ্যিক জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করলে তা লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।
তবে হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত United States Department of Defense বা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র: ডব্লিউএএনএ


