অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও স্ট্রাইক গ্রুপ প্রবেশ করায় ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার আশঙ্কা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরান এখন আলোচনায় আগ্রহী।
বুধবার এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরান একটি চুক্তি করতে চায় এবং তারা একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। তবে একই সঙ্গে যেকোনো ধরনের হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে একটি বিমানবাহী স্ট্রাইক গ্রুপ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় অবস্থান করছে। যদিও নিরাপত্তাজনিত কারণে রণতরীর সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।
বিক্ষোভ দমন ও সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা
গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক অভিযান শুরু করে তেহরান। সেই সময় ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সহিংসতায় প্রায় ৬ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করেনি। মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ে মিশ্র ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন,
“ইরানের পাশে আমাদের একটি বড় নৌবহর রয়েছে—ভেনেজুয়েলার চেয়েও বড়।”
এর আগে কয়েক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিয়ে আসে—এ ঘটনাও নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
‘ইরান দুর্বল অবস্থানে’—গোয়েন্দা প্রতিবেদন
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ট্রাম্প একাধিক মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন পেয়েছেন, যেখানে বলা হয়েছে—শাহের পতনের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ইরানি সরকার বর্তমানে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।
মার্কিন সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম বলেন, ইরান ইস্যুতে গত কয়েক দিনে ট্রাম্পের সঙ্গে তার একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী,
“ওয়াশিংটনের একমাত্র লক্ষ্য এখন ইরানি শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটানো।”
বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা কিংবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বাধীন শাসনের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক আঘাত।
তেহরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি
এদিকে, ইরানের রক্ষণশীল দৈনিক হামশাহরি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী নাইনির বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মার্কিন রণতরী যদি ভুল করেও ইরানের আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করে, তবে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
আরেক দৈনিক জাভান জানিয়েছে, ইরান বড় ধরনের প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত এবং প্রয়োজনে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দখলে নিতে পারে।
যদিও অতীতে তেহরান জানিয়েছিল, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে একটি যোগাযোগ চ্যানেল খোলা রয়েছে।
অনিশ্চিত পরিস্থিতি
অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প এখনো স্পষ্ট করেননি—জাতীয় নিরাপত্তা দলের সামনে উপস্থাপিত বিকল্পগুলোর মধ্যে কোনটিকে তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবহরের এই মোতায়েন শুধু সামরিক চাপ বাড়ায়নি, বরং পুরো অঞ্চলে একটি বড় সংঘাতের আশঙ্কাকেও বাস্তব করে তুলেছে।
সূত্র: আল-মনিটর, রয়টার্স, জেরুজালেম পোস্ট, এএফপি


