ভোলা, ১৬ ডিসেম্বর – ভোলার দৌলতখান উপজেলায় মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালে বিএনপি ও জামায়তে ইসলামীর নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলা স্টেডিয়ামে এই ঘটনা ঘটেছে, যেখানে দুই দলের অন্তত ২০ নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত দু’জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দৌলতখান স্টেডিয়ামে বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও অন্যান্য কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্যসহ বিএনপি ও জামায়াতের নেতা–কর্মীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। প্রত্যেকের জন্য আলাদা আসন নির্ধারণ করা হয়।
জামায়াতের উপজেলা শাখার আমির ও সেক্রেটারি নির্ধারিত আসনে বসেন। কিছুক্ষণ পর বিএনপি নেতা–কর্মীরা সেখানে এসে জামায়াত নেতাদের উদ্দেশে ‘রাজাকার’ বলে মন্তব্য করেন। এ নিয়ে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা, পরে হাতাহাতি শুরু হয় এবং উভয় পক্ষ চেয়ার ছোড়াছুড়িতে জড়িয়ে পড়ে।
জামায়াতের দৌলতখান উপজেলা সেক্রেটারি মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, “উপজেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণে অংশগ্রহণ করি এবং নির্ধারিত আসনে বসি। পরে বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালান। এতে অন্তত ১৫ নেতা–কর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে দু’জন গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। প্রশাসন ও পুলিশ হামলার সময় নীরব ভূমিকা পালন করেছে।”
অন্যদিকে, দৌলতখান উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. ফারুক হোসেন বলেন, “জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে তাদের আরও সংযত থাকা উচিত ছিল। চেয়ারে বসার বিষয়ে ভুল–বোঝাবুঝি থেকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপির পাঁচ থেকে সাত নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন। জামায়াতের অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সিকদার জানান, “বসার আসনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



