অনলাইন ডেস্ক

ওয়াশিংটন, ডিসি: যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা থেকে ৮০ মিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি তেল পেয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে দেওয়া তার স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে তিনি এ তথ্য জানান।
ভাষণে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার “নতুন বন্ধু ও অংশীদার” ভেনেজুয়েলা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল গ্রহণ করেছে, যা মার্কিন অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি দাবি করেন।
মাদুরো আটক ও ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গ
গত ৩ জানুয়ারি এক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট Nicolás Maduro-কে আটকের ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় কূটনৈতিক ও কৌশলগত সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন।
এ সময় ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট Delcy Rodríguez-এর প্রশাসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের কথা বলেন। তার দাবি, দুই দেশের নতুন সহযোগিতামূলক সম্পর্ক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভাষণের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিক
অর্থনীতি ও মুদ্রাস্ফীতি
প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি দ্রুত কমছে এবং অর্থনীতি আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তিনি জানান, গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালন ২ দশমিক ৩০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে—যা প্রশাসনের বড় অর্জন।
সীমান্ত ও অভিবাসন
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে মার্কিন সীমান্ত “নিরাপদ”। তবে নবাগত অভিবাসীদের জন্য ভিসা স্থগিত করার সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সম্প্রতি ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিত করা হয়েছে।
একইসঙ্গে তিনি “আইনগত অভিবাসন” ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক বার্তা দেন ট্রাম্প। বিশেষ করে Iran-এর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদারের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, যেকোনও হুমকি মোকাবিলায় আমেরিকা প্রস্তুত।
‘আমেরিকার স্বর্ণযুগ’ শুরু
ভাষণের একপর্যায়ে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, আমেরিকার “স্বর্ণযুগ” শুরু হয়েছে। তিনি জানান, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নেওয়া হচ্ছে।
জনমত জরিপে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
যদিও প্রেসিডেন্ট তার ভাষণে অর্থনীতি ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে সাফল্যের কথা তুলে ধরেন, সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অভিবাসননীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন কী?
স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ হলো মার্কিন প্রেসিডেন্টের একটি বার্ষিক সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। সাধারণত জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে এ ভাষণ দেওয়া হয়। এতে প্রেসিডেন্ট বিগত বছরের সাফল্য তুলে ধরেন এবং আগামী বছরের নীতি, লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এটি মূলত সরকারের রাজনৈতিক ও নীতিগত রোডম্যাপ হিসেবে বিবেচিত।
সূত্র: আল-জাজিরা


