অনলাইন ডেস্ক

ভারতের সংসদে পাস হওয়া ‘সাসটেনেবল হারনেসিং অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব নিউক্লিয়ার এনার্জি ফর ট্রান্সফর্মিং ইন্ডিয়া (SHANTI) বিল’ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর অনুমোদনের পর আইনে পরিণত হয়েছে। এখন এটি ‘শান্তি আইন’ নামে কার্যকর।
প্রধান লক্ষ্য:
আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো ২০৪৭ সালের স্বাধীনতার শতবর্ষে ভারতের পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৮.৮ গিগাওয়াট থেকে ১০০ গিগাওয়াটে উন্নীত করা, যা দেশকে পেট্রোল-ডিজেল আমদানি কমানোর দিকে নিয়ে যাবে।
আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্য:
-
বেসরকারি খাতকে খোলা: আইনটি বেসরকারি সংস্থা ও যৌথ উদ্যোগকে সরকারের লাইসেন্সের অধীনে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, মালিকানা, পরিচালনা ও বন্ধ করার ক্ষমতা প্রদান করেছে।
-
পরমাণু চুল্লি সরবরাহকারীকে দায়মুক্তি: বিদেশি চুল্লি সরবরাহকারীদের দুর্ঘটনার দায় থেকে আংশিক মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
-
ক্ষতিপূরণের সীমাবদ্ধতা: দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের জন্য বেসরকারি সংস্থাগুলোর সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের বিশেষ তহবিল থাকায় বেসরকারি সংস্থার ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত না হলে কেন্দ্রই দায়ভার নেবে।
-
পুরনো আইন বাতিল: ১৯৬২ সালের পরমাণু শক্তি আইন ও ২০১০ সালের পরমাণু দুর্ঘটনা দায়বদ্ধতা আইন বাতিল করা হয়েছে।
আইনের প্রেক্ষাপট:
-
ইউপিএ সরকারের আমলে ভারত-আমেরিকা পরমাণু চুক্তি ও পরমাণু দায়বদ্ধতা আইন ছিল, যেখানে চুল্লি সরবরাহকারী সংস্থাগুলোর ওপর পূর্ণ দায় আরোপ করা হতো।
-
মোদি সরকার দাবি করেছে, সেই আইন বেসরকারি বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছিল। বেসরকারি সংস্থা বিনিয়োগে আগ্রহী নয় কারণ দায়ভার অসীম ছিল।
বিরোধী সমালোচনা:
-
কংগ্রেসসহ বিরোধীরা বলছে, আইনটি বেসরকারি সংস্থার মুনাফা ও সুবিধার জন্য এবং বিপজ্জনক স্থানে কাজের দায় সীমিত করছে।
-
শিল্পপতি গৌতম আদানির আদানি গ্রুপ নভেম্বরে বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়ে আইন পাস হওয়ার আগে থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
-
বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে, আইনটি কি কেবল বড় শিল্পপতির সুবিধার্থে তাড়াহুড়োর মধ্যে আনা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:
-
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আইনকে স্বাগত জানিয়েছে। এটিকে ‘শক্তিশালী শক্তি নিরাপত্তা অংশীদারি’ এবং ‘শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতা’-এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখেছে।
মোদি সরকারের যুক্তি:
-
বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে পরমাণু খাতকে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।
-
আমেরিকা থেকে চুল্লি আমদানির রাস্তা খোলা হবে এবং ভারতীয় পরমাণু শিল্পকে আধুনিকায়ন করা যাবে।
উপসংহার:
‘শান্তি আইন’ ভারতের পরমাণু শক্তি খাতের বেসরকারিকরণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করেছে। তবে আইনটি নিয়ে দেশের ভেতরে নিরাপত্তা, দায়ভার ও স্বচ্ছতা নিয়ে তর্ক অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, আনন্দবাজার


