অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা বিমানের জ্বালানি সাশ্রয়ে নতুন একটি উন্নত প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে দ্রুতগতির বিমানেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
নতুন এই উইং নকশার নাম দেওয়া হয়েছে ক্রসফ্লো অ্যাটেনুয়েটেড ন্যাচারাল ল্যামিনার ফ্লো (CATNLF)। পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে একটি গবেষণা বিমান রানওয়ে ছাড়ার আগেই ঘণ্টায় প্রায় ২৩১ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার গতি তুলতে সক্ষম হয়েছে। গবেষকদের মতে, এটি বিমানের ঘর্ষণ ও বায়ুর প্রতিকূলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।
নাসা জানিয়েছে, এই প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হলো বিমানের ডানার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ুর পাতলা স্তরকে স্বাভাবিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। এর ফলে বায়ুর ঘর্ষণ ও টার্বিউলেন্স কম তৈরি হয়। এতে ইঞ্জিনকে কম শক্তি ব্যয় করতে হয় এবং জ্বালানি খরচ কমে যায়।
মহাকাশ গবেষকদের মতে, বড় বাণিজ্যিক বিমান যেমন বোয়িং ৭৭৭–এ এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হলে বছরে প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব হতে পারে। এতে শুধু বিমান সংস্থার খরচ কমবে না, পরিবেশে কার্বন নিঃসরণও কমে আসবে।
এই প্রযুক্তি পরীক্ষার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা প্রায় ৩ ফুট উচ্চতার একটি মডেল নাসার এফ-১৫বি গবেষণা বিমানের নিচে সংযুক্ত করা হয়েছিল। বাস্তব বাতাসের প্রবাহে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ জন্য আলাদা করে পূর্ণ আকারের নতুন বিমান তৈরি করার প্রয়োজন হয়নি।
নাসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি সুপারসনিক বা শব্দের চেয়েও দ্রুতগতির বিমানে প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্তমানে বড় বাণিজ্যিক বিমানের জ্বালানি সাশ্রয়ের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে সফল হলে বিশ্বব্যাপী বিমান পরিবহন খাতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
সূত্র: স্ল্যাশগিয়ার


