অনলাইন ডেস্ক

বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখ অতিক্রম করে নতুন মাইলফলকে পৌঁছেছে দক্ষিণ কোরিয়া। একই সঙ্গে বিদেশি শিক্ষার্থী ও স্নাতকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে দেশটি ভিসা নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের উদ্যোগ নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের ইতিবাচক সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য কোরিয়া হেরাল্ড জানায়, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ‘নন-প্রফেশনাল’ বা শ্রমনির্ভর খাতে কাজের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে নতুন আইন প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিরোধী দলের বিল প্রস্তাব
প্রধান বিরোধী দল পিপল পাওয়ার পার্টি-এর আইনপ্রণেতারা বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাজের বৈধতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আলাদা আলাদা বিল উত্থাপন করেছেন। প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়েছে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি-তে।
প্রস্তাব অনুযায়ী—
-
ডি-২ (স্টুডেন্ট) ভিসাধারীরা
-
ডি-১০ (চাকরি প্রত্যাশী) ভিসাধারীরা
উৎপাদন, নির্মাণ, কৃষি, মৎস্য ও জাহাজ নির্মাণসহ বিভিন্ন শ্রমনির্ভর খাতে কাজ করতে পারবেন। আগে এসব খাত মূলত ই-৯ ভিসাধারীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল।
কেন এই পরিবর্তন?
আইনপ্রণেতাদের মতে, বিদেশি শিক্ষার্থীরা ইতিমধ্যে কোরিয়ান ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত। তাই তাদের দেশেই ধরে রাখতে পারলে—
-
শ্রমবাজারের ঘাটতি পূরণ হবে
-
দক্ষ জনশক্তি হারানোর ঝুঁকি কমবে
বর্তমান সীমাবদ্ধতা
বর্তমানে—
-
ডি-২ ভিসায় সীমিত সময় খণ্ডকালীন কাজ করা যায়
-
কাজের ধরন ও সময়ে কড়াকড়ি আছে
-
ডি-১০ ভিসা সর্বোচ্চ ৩ বছর থাকলেও নিজ বিষয়ে চাকরি না পেলে থাকার সুযোগ কম
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ৪২.৯% ভিসা মেয়াদ শেষ হয়েছে। একই সময়ে চাকরি পেয়েছেন মাত্র ১৩.৮% বিদেশি স্নাতক।
নীতিগত পরিবর্তনের প্রস্তুতি
সরকার ইতোমধ্যে একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। বিদেশি কর্মসংস্থান আইন সংশোধনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অস্থায়ীভাবে ই-৯ ভিসায় রূপান্তরের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
ইয়োনসেই ইউনিভার্সিটি-এর অর্থনীতি বিভাগের এক গবেষকের মতে, শ্রমনির্ভর খাতে কাজের অনুমতি স্বল্পমেয়াদি সমাধান হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী বসবাস ও কর্মসংস্থানের সুস্পষ্ট নীতি প্রয়োজন।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
সংশোধনী বিল এখনও চূড়ান্তভাবে পাস হয়নি। তবে সংসদীয় উদ্যোগ, সরকারি আলোচনার অগ্রগতি এবং শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের মধ্যেই বিদেশি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান নীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।


