বিজ্ঞান ডেস্ক

ধান চাষে বাংলাদেশের কৃষকরা প্রধানত দুই ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করেন—বায়োটিক এবং অজৈবিক।
১. বায়োটিক সমস্যা
বায়োটিক সমস্যাগুলো হলো জীবজন্তু ও রোগজনিত সমস্যা, যা ধানের ফলন ও গুণগত মান উভয়ই কমিয়ে দেয়। এর মধ্যে প্রধান হলো:
-
রোগ: ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও ভাইরাসজনিত রোগ। উদাহরণ: ব্লাস্ট, টুংরো, ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট (BLB), বাদামি দাগ, খোলপোড়া, খোলপচা।
-
পোকামাকড়: ধানগাছের বিভিন্ন ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ।
বোরো মৌসুমে এসব রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণে ধানের ফলন প্রায় ১৫% হ্রাস পায়। আউশে ফলন কমে ২৪%, আর আমনে প্রায় ১৮% কমে যায়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী প্রতিটি বছর ধানের ৩৭% পর্যন্ত উৎপাদন রোগ ও পোকামড়ের কারণে নষ্ট হয়। বাংলাদেশে তিনটি মৌসুমে গড়ে প্রায় ১৮% ফলন কমে যায়, তবে নির্দিষ্ট কিছু রোগের তীব্র আক্রমণে ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেড়ে যেতে পারে। দেশে শনাক্তকৃত ৩২টি ধানের রোগের মধ্যে ১০টি রোগ প্রধান।
২. অজৈবিক সমস্যা
অজৈবিক বা পরিবেশজনিত সমস্যাগুলো হলো:
-
বন্যা, খরা, জলাবদ্ধতা
-
লবণাক্ততা
-
উচ্চ ও নিম্ন তাপমাত্রা
এই সমস্যাগুলো ধানগাছের বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই সমস্যাগুলো আরও তীব্র হচ্ছে।
৩. বাংলাদেশের উদ্যোগ ও উদ্ভাবন
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) দেশের ধান উৎপাদনকে টেকসই করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার জন্য নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে। এ পর্যন্ত তারা ৩৭টি ধানজাত উদ্ভাবন করেছে, যা নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে সহনশীল:
-
লবণাক্ততা
-
খরা
-
জলমগ্নতা
-
ঠান্ডা
-
জোয়ার-ভাটা
এই উদ্ভাবিত জাতগুলো ধান চাষে উৎপাদন বাড়াতে এবং কৃষকের আয়ের নিশ্চয়তা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


