আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ওয়াশিংটন: ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘বিজয় ঘোষণা’ করে যুদ্ধ থেকে সরে আসার পরামর্শ দিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন আর্মির ব্রিগেডিয়ার জেনারেল স্টিভ অ্যান্ডারসন। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি হবে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে ‘চৌকস’ কৌশলগত পদক্ষেপ।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যান্ডারসন বলেন, যুদ্ধটি প্রত্যাশিত দিকে অগ্রসর হচ্ছে না এবং এর ফল হিসেবে ইরানে আরও কঠোর ও চরমপন্থী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মোটেও দুর্বল হয়ে পড়েনি। বরং এই বাহিনী দ্রুত নিজেদের পুনর্গঠনের সক্ষমতা রাখে।
এদিকে যুদ্ধের ব্যয় নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, সংঘাতের প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ১১ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
সংঘাতের প্রভাবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এই নৌপথে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে ‘চমৎকার অবস্থায়’ রয়েছে। তার দাবি, ইরানের অধিকাংশ নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে এবং দেশটির হাতে এখন খুব অল্পসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হবে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)ও একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছে। বাহিনীটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলা অব্যাহত থাকলে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালি দিয়ে ‘এক লিটার তেলও’ যেতে দেওয়া হবে না।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ করার দাবি জানিয়ে খামেনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ইরানের আঞ্চলিক সামরিক মিত্রদেরও এই সংঘাতে সক্রিয় করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: দ্য হিল।


