কলকাতা প্রতিনিধি

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, ভারতের প্রতিবেশীদের মধ্যে যেমন বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মতো ভালো প্রতিবেশী দেশ রয়েছে, তেমনি পশ্চিম দিকে পাকিস্তানের মতো একটি খারাপ প্রতিবেশীও আছে—যারা সন্ত্রাসবাদকে মদত দেয়। এ ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে নিজেদের জনগণকে রক্ষা করার পূর্ণ অধিকার ভারতের রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গতকাল (তারিখ উল্লেখযোগ্য) ভারতের ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’ (আইআইটি) মাদ্রাজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে জয়শঙ্কর এসব কথা বলেন। তিনি জানান, দুই দিন আগে তিনি বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়েছেন।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে জয়শঙ্কর বলেন, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর কথা বিবেচনা করলে দেশটি অনেকাংশেই সৌভাগ্যবান। তিনি বলেন, ‘ভালো প্রতিবেশীর প্রতি ভারত সব সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।’
শ্রীলঙ্কার উদাহরণ টেনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশটিতে ঘূর্ণিঝড়ের সময় ভারত সহায়তা দিয়েছে। পাশাপাশি করোনাকালে ভারত নিজ দেশে টিকাদান কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোকে করোনার ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছে। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে যখন ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানি, খাদ্যঘাটতি ও অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেয়, তখনও ভারত তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
এরপর প্রতিবেশী পাকিস্তানের দিকে ইঙ্গিত করে জয়শঙ্কর বলেন, ‘খারাপ প্রতিবেশী থাকতেই পারে এবং দুঃখজনকভাবে আমাদের সেটি আছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমে অবস্থিত একটি দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে, ধারাবাহিকভাবে এবং বিনা উসকানিতে সন্ত্রাসবাদ চালিয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার অধিকার রয়েছে নয়াদিল্লির।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কীভাবে সেই অধিকার প্রয়োগ করব, তা আমাদের নিজস্ব বিষয়। আমরা কী করব বা কী করব না—তা কেউ আমাদের বলে দিতে পারে না। নিজেদের রক্ষা করার জন্য যা যা প্রয়োজন, ভারত তা-ই করবে।’
জয়শঙ্করের এই বক্তব্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে নয়াদিল্লির দৃঢ় অবস্থানকে নতুন করে তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।


