অনলাইন ডেস্ক

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়ে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.৮৯ বিলিয়ন ডলার, যা মাসের শুরুর তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য গণমাধ্যমকে জানান।
সর্বশেষ রিজার্ভ পরিস্থিতি
বাংলাদেশ ব্যাংকের আপডেট অনুযায়ী—
-
গ্রস রিজার্ভ (১০ ডিসেম্বর): ৩১,৮৯০.০৭ মিলিয়ন ডলার
-
বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ: ২৭,২২৪.৪২ মিলিয়ন ডলার
এর আগে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত—
-
গ্রস রিজার্ভ: ৩১,২০৫.৬৪ মিলিয়ন ডলার
-
বিপিএম-৬ রিজার্ভ: ২৬,৫১০.৬৪ মিলিয়ন ডলার
তুলনায় দেখা যায়, দশ দিনের ব্যবধানে—
-
গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৬৮৪ মিলিয়ন ডলার
-
বিপিএম-৬ রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৭১৪ মিলিয়ন ডলার
এই বৃদ্ধিকে বিশ্লেষকরা রেমিট্যান্স প্রবাহের ঊর্ধ্বগতি, রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক ধারা এবং আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের যৌথ প্রভাব হিসেবে দেখছেন।
বিপিএম-৬ পদ্ধতি ও নিট রিজার্ভ
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ (Balance of Payments Manual-6) পদ্ধতিতে দেশের প্রকৃত বা নিট রিজার্ভ নির্ণয় করা হয়। এতে মোট রিজার্ভ থেকে—
-
স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক দায়,
-
ফরওয়ার্ড সেলস চুক্তি,
-
অন্যান্য পরিশোধযোগ্য অঙ্গীকার
বিয়োগ করার পর যে পরিমাণ থাকে, তা-ই নিট বা ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসেবে গণ্য হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসরণ করা এখন বাধ্যতামূলক।
রিজার্ভ বৃদ্ধির সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাব
-
বৈদেশিক লেনদেনে শক্ত অবস্থান তৈরি
-
আমদানি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় আরও স্বস্তি
-
আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের আস্থা বৃদ্ধি
-
মুদ্রাবাজারে চাপ কিছুটা কমতে পারে
বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে রিজার্ভের এই ধারা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক খাতে স্থিতিশীলতা আরও জোরদার হবে।


