অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছে। একের পর এক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করতে গিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর অস্ত্রভাণ্ডারে টান পড়ছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বিশেষ করে ইউরোপের অন্যতম সামরিক শক্তি ফ্রান্স এখন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগে পড়েছে। ফরাসি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্প্রতি একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে ইরানের তথাকথিত ‘কামিকাজে’ ড্রোন ভূপাতিত করতে ফ্রান্স তাদের রাফাল যুদ্ধবিমান থেকে ব্যয়বহুল মিকা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। প্রতিটি মিকা মিসাইলের দাম প্রায় ছয় থেকে সাত লাখ ইউরো, যা ইরানের ব্যবহৃত তুলনামূলক সস্তা ড্রোনের তুলনায় বহুগুণ বেশি। ফলে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দ্রুত কমে আসা মজুদ ফ্রান্সের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
এদিকে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্প সময়ের মধ্যে নতুন করে পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করতে পারছে না বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সংকট শুধু ফ্রান্সেই সীমাবদ্ধ নয়। মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোও একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছে। ইরানের বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঠেকাতে গিয়ে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে মোতায়েন করা মার্কিন প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুদ দ্রুত কমে আসছে।
জানা গেছে, একেকটি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল উৎক্ষেপণে ব্যয় হয় প্রায় ৩০ থেকে ৬০ লাখ মার্কিন ডলার।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, তাদের অস্ত্রভাণ্ডারে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইসরায়েলের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরোধ ব্যবস্থার মজুদ নিয়েও বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, যদিও দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে এমন সংকটের কথা অস্বীকার করেছে।
এই ঘাটতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে মোতায়েন করা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কিছু অংশ মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নিচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা থাড (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি অংশ ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ইরান দাবি করছে, তাদের ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ রয়েছে, যা এখনো অক্ষত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা জোটের প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুদ কমে আসার এই পরিস্থিতি সংঘাতে ইরানকে কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম


