
রাজশাহীর তানোর উপজেলার কোয়েলহাট পূর্ব পাড়া গ্রামে গতকাল বুধবার দুপুরে গভীর গর্তে পড়ে যায় দুই বছরের শিশু সাজিদ। স্থানীয় সূত্র জানায়, বাড়ির পাশে খেলা করার সময় অসাবধানতাবশত শিশুটি মাটির নিচে নেমে থাকা একটি সরু পাইপের মতো গর্তে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের লোকজন চিৎকার–চেঁচামেচি শুরু করলে এলাকাবাসী ছুটে আসে। খবর পেয়ে বিকেল থেকে উদ্ধারকাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন টিম।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, গর্তটি অত্যন্ত সরু এবং নিচের অংশ বক্র হওয়ায় উদ্ধারকাজ চালাতে ব্যাপক জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। নানা ধরনের প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেও শিশুটির কাছে এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সাজিদকে বের করে আনা যায়নি—এতে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
ঘটনাটি যেন পুরো দেশকে শোক ও উৎকণ্ঠায় এক করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ শিশুটির জীবিত উদ্ধারের জন্য দোয়া ও প্রার্থনা করছেন। শোবিজ অঙ্গনের শিল্পী-নির্মাতা থেকে শুরু করে ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব—সবাই পোস্ট দিচ্ছেন সাজিদের সুস্থতা কামনা করে।
ছোট পর্দার অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ ফেসবুকে ক্ষোভ ঝেড়ে লিখেছেন, ‘একটা ১৫০ ফিট গভীর গর্ত! আহা দুই বছরের ছোট সাজিদ! এত বড় গর্ত করে যারা রাখলেন, দেশে হয়তো বিচার হবে না কিন্তু আখিরাতে কী জবাব দেবেন আল্লাহকে?? আমাদের পুরো দেশটাই একটা গভীর গর্ত! প্রতিনিয়ত আমরা আমাদের অজান্তেই এই গর্তে তলিয়ে যাচ্ছি! আমাদের বাঁচাবার কেউ নাই আল্লাহ ছাড়া।’
ইরফান সাজ্জাদ আরও লিখেছেন, ‘সাজিদ বাবা তুমি কিন্তু একা না, আমরা সবাই তোমার মতোই হারিয়ে যাব এ দেশে। একটা বাচ্চাকে গর্ত থেকে বের করার মতো উন্নত প্রযুক্তি নাই, একটা দেশ গড়া ভাবা যায়?’
ওয়ারফেজ ব্যান্ডের ভোকাল পলাশ নূর নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, “আপনাদের মনে আছে কি না, জানি না, ঠিক আজ থেকে ১১ বছর আগে—২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনিতে ৩৫০ ফুট গভীর পাইপে পড়ে চার বছরের শিশু জিহাদ মারা গিয়েছিল। দুই দিন পর তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। গতকাল ঠিক তেমনই একটি ঘটনা ঘটেছে রাজশাহীতে। দুই বছরের সাজিদ একই ধরনের গর্তে পড়ে গেছে। দুই ঘটনার মধ্যে কী ভয়ার্ত মিল! আল্লাহই জানেন, বাবুটির কী অবস্থা!”
তিনি আরও লিখেছেন, “হে আল্লাহ, ওকে জীবিত অবস্থায় তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিন। আমিন।”
এদিকে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ টিমের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে এলাকায় ভিড় বাড়ছে, তবে উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভিড় নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
গ্রামজুড়ে এখন একটাই প্রার্থনা—সাজিদ যেন জীবিত অবস্থায় ফিরে আসে মায়ের কোলে।


