অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের ম্যাচ খেলবে না বলে ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি চরম চাপে পড়েছে এবং বিষয়টি সমাধানে পর্দার আড়ালে তৎপরতা শুরু করেছে, জানিয়েছে পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ১৫ ফেব্রুয়ারি হওয়ার কথা ছিল বহুল আলোচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। তবে পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের ফলে ম্যাচটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এবং আইসিসির বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পিসিবি (পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড) ইতিমধ্যেই আইসিসির সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে, এবং কিছু অন্যান্য দেশের ক্রিকেট বোর্ডও এ কাজে সহযোগিতা করছে। পাকিস্তান সরকার ম্যাচ বর্জনের পেছনে কোনো প্রকাশ্য কারণ জানায়নি। তবে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কারণে পূর্বেও এ ধরনের সিদ্ধান্তের নজির রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ খেলেনি, এবং ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ খেলেনি।
সূত্র জানায়, এবারের সিদ্ধান্তে পাকিস্তান ২০১৮ সালে ভারতের বিরুদ্ধে করা একটি মামলার রায়কেও গুরুত্ব দিচ্ছে। ওই মামলায় ২০১৫–২০২৩ সময়কালে ছয়টি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না খেলার অভিযোগ ছিল। এছাড়াও, আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি (ডিআরসি) পাকিস্তানের বিপক্ষে রায় দিতে পারে, যার ফলে জরিমানা বা নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে লাভজনক ম্যাচ হিসেবে পরিচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক ম্যাচ থেকে সম্প্রচার, বিজ্ঞাপন ও স্পনসরশিপ মিলিয়ে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের সম্ভাবনা থাকে।
আইসিসি একটি বিবৃতিতে সতর্ক করে জানিয়েছে, নির্বাচিত ম্যাচে অংশ না নেওয়া বৈশ্বিক ক্রীড়ার মৌলিক ধারণার পরিপন্থী এবং এটি খেলাটির সততা ও কোটি কোটি ক্রিকেটভক্তের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পাকিস্তান মাঠে না নামলে ভারত দল কলম্বোতে উপস্থিত থাকবে এবং নিয়ম অনুযায়ী ভারতকে পয়েন্ট দেওয়া হবে।


