
দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো করাচি ও চট্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি সমুদ্রপথে শিপিং সেবা চালু করেছে।
পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছে, দুই দেশের মধ্যে করাচি–চট্টগ্রাম সরাসরি শিপিং সেবা চালু হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন দ্রুততর ও সাশ্রয়ী হবে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জাতীয় পরিষদে জমা দেওয়া এক লিখিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় বেশ কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।’ এ খবর দিয়েছে অনলাইন সামা টিভি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, করাচি-চট্টগ্রাম সরাসরি শিপিং সেবা চালু হওয়ার ফলে এখন পণ্য পৌঁছাতে সময় ২৩ দিনের পরিবর্তে মাত্র ১০ দিন লাগছে। এতে লজিস্টিক ব্যবস্থার দক্ষতা বেড়েছে এবং পরিবহন ব্যয়ও কমেছে।
উদ্যোক্তারা বলছেন, এ নতুন সমুদ্রপথ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি মাল পরিবহন করা যাবে, যা পূর্বে তৃতীয় দেশ বা মধ্যবর্তী বন্দরের মাধ্যমে করা হতো। এর ফলে সময় ও খরচ দুই দিকেই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
বাংলাদেশি বাণিজ্যিক সংগঠনগুলো আশা করছে, নতুন সেবার ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে আগত পণ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং এ অঞ্চলের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। পাকিস্তানি ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেছেন, এ উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক বাণিজ্যের সম্ভাবনা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রথম ট্রায়াল শিপমেন্ট ইতোমধ্যেই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং উভয় দেশের বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, আগামী মাসগুলোতে সেবাটি নিয়মিত কার্যক্রমে পরিণত হবে।
করাচি–চট্টগ্রাম সরাসরি শিপিং সেবা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দেবে।
বিডি রিপোর্টস অনলাইন ডেস্ক


