আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ১১ জন নিরাপত্তা সদস্য এবং একটি শিশু নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।
সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী বাজুর জেলা এলাকায় সোমবার বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি সেনা চেকপয়েন্টে ধাক্কা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সেনা সূত্র জানায়, হামলায় আহতদের মধ্যে সাতজন নারী ও শিশুও রয়েছে।
কীভাবে হামলা চালানো হয়
জানা গেছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা নিরাপত্তা বাহিনীর একটি আবাসিক কম্পাউন্ডে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী বাধা দিলে হামলাকারীরা চেকপয়েন্টের দেয়ালে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নিয়ে ধাক্কা দেয়।
পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে পালানোর সময় নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ১২ হামলাকারী নিহত হয়।
হামলার দায় স্বীকার
এই হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামপন্থি জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান। সংগঠনটি পাকিস্তানে টিটিপি নামেও পরিচিত।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, টিটিপি ২০০৭ সাল থেকে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে আসছে। তাদের লক্ষ্য দেশটিতে কঠোর ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
যুদ্ধবিরতি ভেঙে সহিংসতা বৃদ্ধি
২০২২ সালের শেষ দিকে ইসলামাবাদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভেঙে দেওয়ার পর থেকে সংগঠনটি তাদের হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তান-কে এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় ও সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে। তবে তালেবান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সাম্প্রতিক আরেক হামলা
চলতি মাসের শুরুতে রাজধানী ইসলামাবাদ-এর একটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় বোমা হামলায় ৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। ওই হামলার দায় স্বীকার করে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট।


