অনলাইন ডেস্ক

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলার বয়া এলাকায় একটি সেনা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের আত্মঘাতী হামলায় চার সেনা নিহত হয়েছেন। হামলায় পাঁচ সন্ত্রাসীও নিহত হয়েছে।
দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পে প্রবেশের আগেই নিরাপত্তা বাহিনী তাদের প্রতিহত করে। আইএসপিআর বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতীয় সমর্থিত খারেজি গোষ্ঠীর সন্ত্রাসীরা নৃশংস ও কাপুরুষোচিত এই হামলার চেষ্টা করে। পাকিস্তান রাষ্ট্র ‘ফিতনা আল খারেজি’ নামটি নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) সশস্ত্র গোষ্ঠীর জন্য ব্যবহার করে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসীরা প্রথমে ক্যাম্পের বাইরের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা করলেও সেনাদের দ্রুত ও দৃঢ় প্রতিরোধে তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। পরে তারা বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি ক্যাম্পের বাইরের দেয়ালে আঘাত করলে দেয়ালের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে এবং আশপাশের বেসামরিক স্থাপনা, বিশেষ করে একটি মসজিদ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বোমা হামলায় ১৫ জন বেসামরিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে। হামলার সময় দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র গুলিবিনিময়ও ঘটে। নিহত সেনাদের মধ্যে রয়েছেন হাবিলদার মোহাম্মদ ওয়াকাস (৪২, জেলা কোটলি), নায়েক খানওয়াইজ (৩৮, জেলা মানসেহরা), সিপাহি সুফিয়ান হায়দার (২৫, জেলা ভেহারি) ও সিপাহি রিফাত (৩২, জেলা লেইয়াহ)।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আফগানিস্তানভিত্তিক খারেজিরা এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছে। পাকিস্তান আশা করছে আফগান তালেবান সরকার তাদের ভূখণ্ডে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উপস্থিতি এড়াতে এবং পাকিস্তানবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
ওয়াজিরিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা নতুন নয়। দুই মাস আগে মির আলিতে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল, যেখানে চার সন্ত্রাসী নিহত হয়। চলতি বছরে গ্লোবাল টেরোরিজম ইনডেক্স ২০২৫ অনুযায়ী, পাকিস্তান বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সন্ত্রাসপ্রবণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। গত বছরের তুলনায় দেশে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র: ডন নিউজ, আনাদোলু এজেন্সি, এনবিসি নিউজ


