অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেও সামরিক হামলার মাধ্যমে ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই বলে মনে করছেন ইসরায়েলের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। পর্দার আড়ালে ইসরায়েলি নেতৃত্ব এই বাস্তবতা মেনে নিয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, ইরানে ধারাবাহিক বোমাবর্ষণ চললেও এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো গণঅভ্যুত্থানের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যদিও শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, হামলা শুরু হলেই ইরানি জনগণ রাজপথে নেমে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে। তবে ইসরায়েলের মূল্যায়ন ভিন্ন। দেশটির অন্তত দুইজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখনও সংঘাতের সমাপ্তির কাছাকাছি পৌঁছায়নি।
ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির বহু জ্যেষ্ঠ সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। এসব হামলায় বহু বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন। পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে আবাসিক এলাকা ও সরকারি স্থাপনা, যা ইরানি জনগণের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করেছে।
তবে এই ক্ষোভ সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়নি। অর্থনৈতিক সংকট এবং শাসনব্যবস্থার নানা বিষয়ে অসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও সংকটকালীন সময়ে অনেক ইরানি নাগরিক বর্তমান সরকারের পক্ষেই অবস্থান নিচ্ছেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যৌথ বিমান হামলা শুরুর দিন বলেছিলেন, “আমাদের পদক্ষেপ সাহসী ইরানি জনগণকে তাদের ভাগ্য নিজেদের হাতে নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করবে।”
তবে গত মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের লক্ষ্য ইরানি জনগণকে ‘স্বৈরাচারের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হতে সহায়তা করা’, তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে ইরানে নিকট ভবিষ্যতে বড় ধরনের গণঅভ্যুত্থানের সম্ভাবনা কম।
এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে শুরুতে ‘দুর্বল’ আখ্যা দিলেও পরে তাকে নিয়ে প্রকাশ্যে আর কোনো মন্তব্য করেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ায় এখন সংঘাত দ্রুত শেষ করার উপায় খুঁজছে ওয়াশিংটন।
সূত্র: রয়টার্স।


